ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাগর উত্তাল, সুন্দরবন ও উপকূলে আশ্রয় নিয়েছে শত শত ফিশিং ট্রলার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নোয়াখালীতে নির্মাণাধীন সেতুতে জালিয়াতি, বরখাস্তের পাশাপাশি কৈফিয়ত তলব এলজিইডির সরকারই বিরোধী দলকে রাজপথে ঠেলে দিয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান ইয়াবাসহ কোটচাঁদপুরে দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক ওসি রাকিবুল হাসান গ্রেপ্তার এক ট্রলারে ধরা পড়ল ৬০ মণ ইলিশ দণ্ডের পর পুলিশের ৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, হোয়াইট হাউসে ফিরছে সিএনএন-পলিটিকো-মএস নাও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপন, সময়োপযোগী পাঠ্যক্রমের তাগিদ

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমানো এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪-এ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে আমাদের সংকল্পও আরও দৃঢ় হোক, আর আমাদের পদক্ষেপ হোক তার চেয়েও দ্রুত।”

তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলা বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বৈশ্বিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্বে যত কার্বন নিঃসরণ হয়, সমুদ্র তার প্রতিটি টনের প্রতিক্রিয়া দেখায়। শুধু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; নিঃসরণ কমানোর কার্যকর উদ্যোগও জরুরি।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটি একটি সক্রিয় বদ্বীপ। শত শত নদী দেশের ভূখণ্ড পেরিয়ে সাগরে মিশেছে। তাই দেশের মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উপকূলীয় পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রায় এক কোটি মানুষের বসতি, জীবিকা ও জীবনযাত্রা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তিনি জানান, সীমিত সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় সুরক্ষায় বিনিয়োগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পানি সংরক্ষণে পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ, তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সবুজ প্রবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সবুজ শিল্প, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, জাতীয় কার্বন বাজার এবং বন ও জলাভূমি সংরক্ষণেও কাজ চলছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলায় চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হলো—বৈশ্বিক নিঃসরণ দ্রুত ও ন্যায়সংগতভাবে কমানো, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা, প্রযুক্তি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

তিনি বলেন, সমুদ্র দ্রুত উচ্চতর হচ্ছে, তাই বিশ্ববাসীর পদক্ষেপও দ্রুততর হতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমানো এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪-এ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে আমাদের সংকল্পও আরও দৃঢ় হোক, আর আমাদের পদক্ষেপ হোক তার চেয়েও দ্রুত।”

তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলা বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বৈশ্বিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্বে যত কার্বন নিঃসরণ হয়, সমুদ্র তার প্রতিটি টনের প্রতিক্রিয়া দেখায়। শুধু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; নিঃসরণ কমানোর কার্যকর উদ্যোগও জরুরি।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটি একটি সক্রিয় বদ্বীপ। শত শত নদী দেশের ভূখণ্ড পেরিয়ে সাগরে মিশেছে। তাই দেশের মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উপকূলীয় পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রায় এক কোটি মানুষের বসতি, জীবিকা ও জীবনযাত্রা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তিনি জানান, সীমিত সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় সুরক্ষায় বিনিয়োগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পানি সংরক্ষণে পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ, তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সবুজ প্রবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সবুজ শিল্প, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, জাতীয় কার্বন বাজার এবং বন ও জলাভূমি সংরক্ষণেও কাজ চলছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলায় চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হলো—বৈশ্বিক নিঃসরণ দ্রুত ও ন্যায়সংগতভাবে কমানো, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা, প্রযুক্তি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

তিনি বলেন, সমুদ্র দ্রুত উচ্চতর হচ্ছে, তাই বিশ্ববাসীর পদক্ষেপও দ্রুততর হতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।