ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান সাগর উত্তাল, সুন্দরবন ও উপকূলে আশ্রয় নিয়েছে শত শত ফিশিং ট্রলার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নোয়াখালীতে নির্মাণাধীন সেতুতে জালিয়াতি, বরখাস্তের পাশাপাশি কৈফিয়ত তলব এলজিইডির সরকারই বিরোধী দলকে রাজপথে ঠেলে দিয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান ইয়াবাসহ কোটচাঁদপুরে দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক ওসি রাকিবুল হাসান গ্রেপ্তার এক ট্রলারে ধরা পড়ল ৬০ মণ ইলিশ দণ্ডের পর পুলিশের ৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, হোয়াইট হাউসে ফিরছে সিএনএন-পলিটিকো-মএস নাও

নোয়াখালীতে নির্মাণাধীন সেতুতে জালিয়াতি, বরখাস্তের পাশাপাশি কৈফিয়ত তলব এলজিইডির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিং নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম এবং কার্যালয়ের কার্যসহকারী মহিন উদ্দিন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক এক অফিস আদেশে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণাধীন ওই সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিং তৈরিতে নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় এলজিইডি।

আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে সরকারি চাকরি বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাঁদের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। তবে বরখাস্তকালীন বিধি অনুযায়ী তাঁরা খোরাকি/ভরণপোষণের ভাতা পাবেন।

​অনিয়মের স্থান ও প্রকল্প বিবরণী:
এলজিইডি সূত্র জানায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির কাজ করছে ‘মেসার্স হক ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

​পরিদর্শন ও তদন্তের নির্দেশ: গত ২১ সেপ্টেম্বর এলজিইডির সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে নির্মাণাধীন সেতুটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে দেখা যায়, সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাইয়ের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের, যা অনুমোদিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত। পাশাপাশি সেতুটির রেলিং নির্মাণে ব্যবহৃত রডের গুণগত মানও ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।

​অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসার পর নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম এবং কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে পৃথক চারটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই প্রকৌশলীর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব খরচে ত্রুটিপূর্ণ অংশ অবিলম্বে সংশোধনের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
​
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে এলজিইডির নোয়াখালী জেলার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীনকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে উত্থাপিত অভিযোগ বিস্তারিত তদন্তপূর্বক তিন কার্যদিবসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নোয়াখালীতে নির্মাণাধীন সেতুতে জালিয়াতি, বরখাস্তের পাশাপাশি কৈফিয়ত তলব এলজিইডির

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিং নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম এবং কার্যালয়ের কার্যসহকারী মহিন উদ্দিন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক এক অফিস আদেশে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণাধীন ওই সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিং তৈরিতে নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় এলজিইডি।

আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে সরকারি চাকরি বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাঁদের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। তবে বরখাস্তকালীন বিধি অনুযায়ী তাঁরা খোরাকি/ভরণপোষণের ভাতা পাবেন।

​অনিয়মের স্থান ও প্রকল্প বিবরণী:
এলজিইডি সূত্র জানায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির কাজ করছে ‘মেসার্স হক ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

​পরিদর্শন ও তদন্তের নির্দেশ: গত ২১ সেপ্টেম্বর এলজিইডির সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে নির্মাণাধীন সেতুটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে দেখা যায়, সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাইয়ের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের, যা অনুমোদিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত। পাশাপাশি সেতুটির রেলিং নির্মাণে ব্যবহৃত রডের গুণগত মানও ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।

​অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসার পর নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম এবং কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে পৃথক চারটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই প্রকৌশলীর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব খরচে ত্রুটিপূর্ণ অংশ অবিলম্বে সংশোধনের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
​
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে এলজিইডির নোয়াখালী জেলার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীনকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে উত্থাপিত অভিযোগ বিস্তারিত তদন্তপূর্বক তিন কার্যদিবসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।