ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা ছাড়ার আগে জেনে নিন, কোন রুটে কত বাড়ল বাসভাড়া ১৭ বছরের চালক, ২৪ বছরের শ্রমিকের মৃত্যু—শেষ হলো ৯ লাখ টাকার আপসে ডেঙ্গুর ভয়াল ছোবল, একদিনে ৮ মৃত্যু হামের উপসর্গে একদিনে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ২৮৩ দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা: ফের রিমান্ডে এমপি নজরুল বিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন জামিনে বের হওয়ার পাঁচ দিনেই ফের ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার রডের জায়গায় বাঁশের কঞ্চি! বরখাস্ত এলজিইডির কার্যসহকারী হাসমত ইখলাস হত্যা: ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২ যানজট নিরসনে বাইপাস রুট গঠনে জোর ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের

১৭ বছরের চালক, ২৪ বছরের শ্রমিকের মৃত্যু—শেষ হলো ৯ লাখ টাকার আপসে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকায় ফুটপাতে উঠে পড়া প্রাইভেটকারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম (২৪) নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোর আজান আলী শারীফ (১৭) ও তার পরিবারের সঙ্গে নিহতের পরিবারের আপস হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে মোট ৯ লাখ টাকায় এ আপস-মীমাংসা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। আসামিরা জামিন বা খালাস পেলে বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি থাকবে না বলেও জানান তিনি।

একটি প্রাণহানির ঘটনায় ৯ লাখ টাকায় আপসের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, নিহত ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিজেদের বিবেচনায় আপসে সম্মত হয়েছেন।

যেভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা

আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঢাকা মেট্রো গ-১৮-৬৬৭৬ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ফুটপাতে উঠে যায়। সেখানে বসে থাকা মেহেদী হাসান মিম গাড়িটির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আকাশ মারক (৪৪)। গাড়িতে ছিলেন তার ছোট ভাই আজান আলী শারীফ (১৭)। এ ঘটনায় নিহতের পক্ষ থেকে গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করা হয়।

দুর্ঘটনার পর দুই পরিবারের সমঝোতা

আপসনামায় বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে আগে কোনো পরিচয় বা বিরোধ ছিল না। ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা ও নিকটাত্মীয়দের মধ্যস্থতায় বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আপসনামা অনুযায়ী, মেহেদী হাসিমের দাফন-কাফনসহ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য প্রথম পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ১ লাখ টাকা সহায়তা দেয়। পরে নিহতের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে নিহতের পরিবার মোট ৯ লাখ টাকা গ্রহণ করে আপসনামায় স্বাক্ষর করে।

আপসনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মামলা প্রত্যাহারের জন্য নিহতের পরিবার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে এবং আসামি আজান আলী শারীফ ও গাড়িচালক আকাশ মারকের জামিনের বিষয়ে আদালতে অনাপত্তি জানাবে।

চিকিৎসা ও গাড়ি মেরামতের ব্যয়ও নিজেদের

আপসনামা অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি মেরামত এবং আহত গাড়িচালক ও আজান আলী শারীফের চিকিৎসার ব্যয় প্রথম পক্ষ নিজেই বহন করবে। এসব বিষয়ে নিহতের পরিবারের কাছে কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে না বলেও এতে উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া দুর্ঘটনাটি নিয়ে ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের মধ্যে আর কোনো অভিযোগ বা বিরোধ না রাখার বিষয়েও আপসনামায় সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

মামলার পরবর্তী শুনানি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ হবে বলে আইনজীবী জানিয়েছেন।

একজন তরুণের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার যে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা কোনো অর্থেই পূরণ হওয়ার নয়। তবে দুই পরিবারের সম্মতিতে করা এই আপসের আইনগত কার্যকারিতা এবং মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়া আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

১৭ বছরের চালক, ২৪ বছরের শ্রমিকের মৃত্যু—শেষ হলো ৯ লাখ টাকার আপসে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকায় ফুটপাতে উঠে পড়া প্রাইভেটকারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম (২৪) নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোর আজান আলী শারীফ (১৭) ও তার পরিবারের সঙ্গে নিহতের পরিবারের আপস হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে মোট ৯ লাখ টাকায় এ আপস-মীমাংসা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। আসামিরা জামিন বা খালাস পেলে বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি থাকবে না বলেও জানান তিনি।

একটি প্রাণহানির ঘটনায় ৯ লাখ টাকায় আপসের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, নিহত ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিজেদের বিবেচনায় আপসে সম্মত হয়েছেন।

যেভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা

আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঢাকা মেট্রো গ-১৮-৬৬৭৬ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ফুটপাতে উঠে যায়। সেখানে বসে থাকা মেহেদী হাসান মিম গাড়িটির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আকাশ মারক (৪৪)। গাড়িতে ছিলেন তার ছোট ভাই আজান আলী শারীফ (১৭)। এ ঘটনায় নিহতের পক্ষ থেকে গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করা হয়।

দুর্ঘটনার পর দুই পরিবারের সমঝোতা

আপসনামায় বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে আগে কোনো পরিচয় বা বিরোধ ছিল না। ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা ও নিকটাত্মীয়দের মধ্যস্থতায় বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আপসনামা অনুযায়ী, মেহেদী হাসিমের দাফন-কাফনসহ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য প্রথম পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ১ লাখ টাকা সহায়তা দেয়। পরে নিহতের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে নিহতের পরিবার মোট ৯ লাখ টাকা গ্রহণ করে আপসনামায় স্বাক্ষর করে।

আপসনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মামলা প্রত্যাহারের জন্য নিহতের পরিবার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে এবং আসামি আজান আলী শারীফ ও গাড়িচালক আকাশ মারকের জামিনের বিষয়ে আদালতে অনাপত্তি জানাবে।

চিকিৎসা ও গাড়ি মেরামতের ব্যয়ও নিজেদের

আপসনামা অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি মেরামত এবং আহত গাড়িচালক ও আজান আলী শারীফের চিকিৎসার ব্যয় প্রথম পক্ষ নিজেই বহন করবে। এসব বিষয়ে নিহতের পরিবারের কাছে কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে না বলেও এতে উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া দুর্ঘটনাটি নিয়ে ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের মধ্যে আর কোনো অভিযোগ বা বিরোধ না রাখার বিষয়েও আপসনামায় সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

মামলার পরবর্তী শুনানি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ হবে বলে আইনজীবী জানিয়েছেন।

একজন তরুণের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার যে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা কোনো অর্থেই পূরণ হওয়ার নয়। তবে দুই পরিবারের সম্মতিতে করা এই আপসের আইনগত কার্যকারিতা এবং মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়া আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।