ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন জামিনে বের হওয়ার পাঁচ দিনেই ফের ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার রডের জায়গায় বাঁশের কঞ্চি! বরখাস্ত এলজিইডির কার্যসহকারী হাসমত ইখলাস হত্যা: ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২ যানজট নিরসনে বাইপাস রুট গঠনে জোর ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের রাত ৩টায় জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ‘অপ্রতিমকে আর ফিরে পাব না, তবে আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়’ গঙ্গা পানিবণ্টনে নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ হাইকোর্টে স্থায়ী বিচারপতি হলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী টানা চার দিন বৃষ্টি, কোথাও হতে পারে অতি ভারী বর্ষণ

জামিনে বের হওয়ার পাঁচ দিনেই ফের ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাদক মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর জামিনে মুক্তির পাঁচ দিনের মাথায় আবারও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের নাজির হোসেন (৫১)। এবার তাঁর বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের রাউতনগর মিশনপাড়া এলাকায় নাজির হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাজির ওই এলাকার মৃত আ. সামাদের ছেলে।

ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের একটি দল নাজির হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। সহকারী পরিচালক হারুন আর রশিদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকেই নাজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাঁচ দিন আগেই জামিনে মুক্তি

নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত মামলার এটি নতুন ঘটনা নয়। এর আগে গত ৩১ আগস্ট হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) এলাকায় পুলিশের অভিযানে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় নাজিরের কাছ থেকে ১৪৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তাঁর স্ত্রীর কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে মাদক বিক্রির ১০ লাখ টাকা এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছিল।

ওই মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর পাঁচ দিন আগে জামিনে মুক্তি পান নাজির। এর পরপরই ফের ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আগের মামলায় ছিল মাদক বিক্রির অভিযোগ

পুলিশ জানিয়েছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজির ও তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সংগ্রহ করে হরিপুর ও আশপাশের এলাকায় বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের অংশ; আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নাজিরকে হোসেনগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন করে মাদক মামলা

বুধবারের অভিযানে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) শাকিলা রহমান বাদী হয়ে নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রাণীশংকৈল থানায় মামলা করেছেন।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, ডিএনসি গ্রেপ্তার নাজির হোসেনকে থানায় হস্তান্তর করেছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অল্প সময়ের ব্যবধানে ফের বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহের নেটওয়ার্ক এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জামিনে বের হওয়ার পাঁচ দিনেই ফের ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর জামিনে মুক্তির পাঁচ দিনের মাথায় আবারও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের নাজির হোসেন (৫১)। এবার তাঁর বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের রাউতনগর মিশনপাড়া এলাকায় নাজির হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাজির ওই এলাকার মৃত আ. সামাদের ছেলে।

ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের একটি দল নাজির হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। সহকারী পরিচালক হারুন আর রশিদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকেই নাজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাঁচ দিন আগেই জামিনে মুক্তি

নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত মামলার এটি নতুন ঘটনা নয়। এর আগে গত ৩১ আগস্ট হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) এলাকায় পুলিশের অভিযানে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় নাজিরের কাছ থেকে ১৪৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তাঁর স্ত্রীর কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে মাদক বিক্রির ১০ লাখ টাকা এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছিল।

ওই মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর পাঁচ দিন আগে জামিনে মুক্তি পান নাজির। এর পরপরই ফের ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আগের মামলায় ছিল মাদক বিক্রির অভিযোগ

পুলিশ জানিয়েছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজির ও তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সংগ্রহ করে হরিপুর ও আশপাশের এলাকায় বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের অংশ; আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নাজিরকে হোসেনগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন করে মাদক মামলা

বুধবারের অভিযানে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) শাকিলা রহমান বাদী হয়ে নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রাণীশংকৈল থানায় মামলা করেছেন।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, ডিএনসি গ্রেপ্তার নাজির হোসেনকে থানায় হস্তান্তর করেছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অল্প সময়ের ব্যবধানে ফের বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহের নেটওয়ার্ক এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।