রাত ৩টায় জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ বৃহস্পতিবার বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টায়, বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় তাঁর এ ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
বুধবার নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহ্দী আমিন প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁদের ধারাবাহিকতায় এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলায় ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য ও কৃষিতে গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আলোচনা
প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচির শুরুতেই গেটস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, ‘স্মার্ট ফার্মার কার্ড’-এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং স্বাস্থ্য খাতে দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে নিজস্ব ভ্যাকসিন উৎপাদন এবং এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সরকারি পরিকল্পনাও আলোচনায় আসে। এসব স্বাস্থ্যকর্মীর ৮০ শতাংশ নারী হওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
মাহ্দী আমিন জানান, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে গেটস ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকটে পাঁচ দফা প্রস্তাব
জাতিসংঘে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, মিয়ানমারে নিপীড়ন বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা বাড়ানো।
মাহ্দী আমিন বলেন, ২০১৭ সালের পর থেকে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সময়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় এই জনগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের ওপর চাপও বাড়ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন।
ক্রোয়েশিয়া ও ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
প্রধানমন্ত্রীর সফরে ক্রোয়েশিয়া ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের নতুন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মী ও অভিবাসীদের নিরাপত্তা, তাঁদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয় গুরুত্ব পায়।
জলবায়ু মোকাবিলায় বাংলাদেশের পরিকল্পনা
‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহ্দী আমিন জানান, নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মতো পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হয়েছে। কার্বন নিঃসরণ কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও গ্রিন এনার্জি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১ উড়োজাহাজের চুক্তি
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনার পাশাপাশি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিও হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে ১১টি নতুন বিমান কেনার বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের পর বোয়িংয়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
মাহ্দী আমিনের ভাষ্য, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন রুট চালুর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরের দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্য—বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক বৈঠক ও আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরা হয়েছে। আজ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শুরু হচ্ছে।





















