বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি, জানালেন মাহদী আমিন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:২৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহদী আমিন বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আরও ১১টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। অনুষ্ঠানে মার্কিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্ডার সেক্রেটারি অব কমার্স উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নতুন রুট, বাড়ছে উড়োজাহাজের প্রয়োজন
মাহদী আমিন বলেন, দেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা থাকায় বিমানবহরেও উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশ চাহিদার ভিত্তিতেই উড়োজাহাজ কিনবে জানিয়ে তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরোপের উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।
বোয়িংয়ের একটি প্রতিনিধিদল পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে স্বাস্থ্য-কৃষি নিয়ে আলোচনা
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের দ্বিতীয় দিনের বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্যও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন মাহদী আমিন।
তিনি জানান, গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির বিষয়ও আলোচনায় আসে।
রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘে আয়োজিত পার্শ্ব-অনুষ্ঠানের বিষয়েও কথা বলেন মাহদী আমিন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি মিয়ানমারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
ক্রোয়েশিয়া ও ইরানের সঙ্গে বৈঠক
জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানান মাহদী আমিন। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে বাংলাদেশ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজন হলে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার কথাও জানান তিনি।
সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি, বাণিজ্য এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।
জলবায়ু অর্থায়নেও গুরুত্ব
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরেছেন বলে জানান মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
‘সব দরজা খোলা রাখতে হয়’
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়—দুই পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে দেশটির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা হয়েছে।
তাঁর ভাষায়, কূটনীতিতে সব দরজা ও সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়; আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, পরদিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।





















