ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিলেটে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, এক দিনে শনাক্ত ৮ অসহায় মানুষের ভরসাস্থল গাজীপুরের ডিসি বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি, জানালেন মাহদী আমিন সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল, ৬৫৪৪ প্রতিষ্ঠানে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশ্বকে ৫ জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর স্থানীয় সরকারের ৬৫৪৪ প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, লক্ষ্য ৩০০ মেগাওয়াট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ৫ দফা প্রস্তাব, জাতিসংঘে তারেক রহমানের জোরালো আহ্বান ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাত, ফুডপান্ডার ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা হজ নিবন্ধনের টাকা জমা দিতে শুক্র-শনিবারও খোলা ব্যাংক ইউপি ভোটে বদলে গেল নিয়ম, জামানত পাঁচ গুণ—হুমকি দিলে প্রার্থিতা বাতিল

অসহায় মানুষের ভরসাস্থল গাজীপুরের ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি জন প্রশাসনের সেবা প্রক্রিয়ায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

প্রতি বুধবার তিনি আয়োজন করছেন বিশেষ গণশুনানি, যেখানে তিনি চরম ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায়, দুস্থ ও নিগৃহীত নারী-পুরুষের নানা অভাব, অভিযোগ ও দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন। শুধু শোনাই নয়, সাধ্যের মধ্যে থাকা সমস্যাগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। ফলে দুশ্চিন্তা আর হতাশা নিয়ে আসা মানুষগুলো মুখে স্বস্তির হাসি নিয়ে ঘরে ফিরছেন।

​বুধবারের এই গণশুনানিতে উঠে আসে সাধারণ মানুষের জীবনের নানা বাস্তব চিত্র।

​চিকিৎসা ও অর্থ সহায়তা: পঙ্গু বাবার চিকিৎসার জন্য আসা পোশাক শ্রমিক সানিয়া আক্তারকে নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সুচিকিৎসার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। একইভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত টঙ্গীর অসহায় বৃদ্ধা সামসুন্নাহারকেও তাৎক্ষণিক চিকিৎসার অর্থ সাহায্য দেওয়া হয়।

​আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা: স্বামী হারিয়ে ভাসুর ও আত্মীয়দের দ্বারা গৃহহীন ও অন্যায়ের শিকার বিধবা হালিমা আক্তারের চোখের জল দেখে জেলা প্রশাসক দ্রুত সদর সার্কেলের এসিল্যান্ডকে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেন।

​জনকল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়ন: জমি অধিগ্রহণের বিল, মাতৃত্বকালীন ভাতা, কারখানা ও বকেয়া বেতন আদায়, সড়ক সংস্কার কিংবা ইউনিয়নে নতুন ভূমি অফিস ও হাসপাতাল স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আঞ্চলিক দাবির বিষয়েও ব্যবস্থা নিচ্ছেন তিনি। সমাজসেবা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক বিভাগ, প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ত্রাণ বিভাগের মতো সরকারি খাতগুলোকে সঠিক মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

​জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার ভাষায়, “আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তার নিজের অধিকার বুঝে পাবে। প্রতিদিন এই মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, তাদের জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সহমর্মিতার সমন্বয়ে তিনি আজ সাধারণ মানুষের প্রকৃত সেবক হয়ে উঠেছেন।

​অন্যান্য জেলা প্রশাসকদের জন্য বার্তা: নৈতিক দায়িত্ব ও করণীয়: ​গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ কেবল একটি জেলার প্রশাসনিক সাফল্য নয়, বরং পুরো দেশের মাঠ প্রশাসনের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল। একজন জেলা প্রশাসক সরকারের নির্বাহী প্রতিনিধি হিসেবে কেবল প্রশাসনিক আদেশ জারি বা ফাইল সই করার দায়িত্ব পালন করেন না; সমাজের দুর্বল ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্বের অংশ।

​জনবিচ্ছিন্নতা দূরীকরণ: গাজীপুরের মতো অন্যান্য জেলাতেও নিয়মিত ও কার্যকর গণশুনানি জোরদার করা হলে প্রশাসনের সাথে সাধারণ জনগণের দূরত্ব কমে আসবে।


​সরকারি সেবার সুষম বণ্টন: সরকারি তহবিল, ভাতা ও চিকিৎসা সহায়তার সুযোগগুলো প্রকৃত দুস্থদের কাছে পৌঁছে দিতে ডিসিদের সচেষ্ট ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

​মানবিক শাসনব্যবস্থা: গাজীপুরের ডিসির এই মহতী উদ্যোগ যদি সারাদেশের জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ জেলায় বাস্তবায়ন করেন, তবে রূপায়িত হবে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার সেই কাঙ্ক্ষিত ‘মানবিক বাংলাদেশ’।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অসহায় মানুষের ভরসাস্থল গাজীপুরের ডিসি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি জন প্রশাসনের সেবা প্রক্রিয়ায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

প্রতি বুধবার তিনি আয়োজন করছেন বিশেষ গণশুনানি, যেখানে তিনি চরম ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায়, দুস্থ ও নিগৃহীত নারী-পুরুষের নানা অভাব, অভিযোগ ও দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন। শুধু শোনাই নয়, সাধ্যের মধ্যে থাকা সমস্যাগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। ফলে দুশ্চিন্তা আর হতাশা নিয়ে আসা মানুষগুলো মুখে স্বস্তির হাসি নিয়ে ঘরে ফিরছেন।

​বুধবারের এই গণশুনানিতে উঠে আসে সাধারণ মানুষের জীবনের নানা বাস্তব চিত্র।

​চিকিৎসা ও অর্থ সহায়তা: পঙ্গু বাবার চিকিৎসার জন্য আসা পোশাক শ্রমিক সানিয়া আক্তারকে নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সুচিকিৎসার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। একইভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত টঙ্গীর অসহায় বৃদ্ধা সামসুন্নাহারকেও তাৎক্ষণিক চিকিৎসার অর্থ সাহায্য দেওয়া হয়।

​আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা: স্বামী হারিয়ে ভাসুর ও আত্মীয়দের দ্বারা গৃহহীন ও অন্যায়ের শিকার বিধবা হালিমা আক্তারের চোখের জল দেখে জেলা প্রশাসক দ্রুত সদর সার্কেলের এসিল্যান্ডকে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেন।

​জনকল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়ন: জমি অধিগ্রহণের বিল, মাতৃত্বকালীন ভাতা, কারখানা ও বকেয়া বেতন আদায়, সড়ক সংস্কার কিংবা ইউনিয়নে নতুন ভূমি অফিস ও হাসপাতাল স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আঞ্চলিক দাবির বিষয়েও ব্যবস্থা নিচ্ছেন তিনি। সমাজসেবা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক বিভাগ, প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ত্রাণ বিভাগের মতো সরকারি খাতগুলোকে সঠিক মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

​জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার ভাষায়, “আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তার নিজের অধিকার বুঝে পাবে। প্রতিদিন এই মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, তাদের জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সহমর্মিতার সমন্বয়ে তিনি আজ সাধারণ মানুষের প্রকৃত সেবক হয়ে উঠেছেন।

​অন্যান্য জেলা প্রশাসকদের জন্য বার্তা: নৈতিক দায়িত্ব ও করণীয়: ​গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ কেবল একটি জেলার প্রশাসনিক সাফল্য নয়, বরং পুরো দেশের মাঠ প্রশাসনের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল। একজন জেলা প্রশাসক সরকারের নির্বাহী প্রতিনিধি হিসেবে কেবল প্রশাসনিক আদেশ জারি বা ফাইল সই করার দায়িত্ব পালন করেন না; সমাজের দুর্বল ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্বের অংশ।

​জনবিচ্ছিন্নতা দূরীকরণ: গাজীপুরের মতো অন্যান্য জেলাতেও নিয়মিত ও কার্যকর গণশুনানি জোরদার করা হলে প্রশাসনের সাথে সাধারণ জনগণের দূরত্ব কমে আসবে।


​সরকারি সেবার সুষম বণ্টন: সরকারি তহবিল, ভাতা ও চিকিৎসা সহায়তার সুযোগগুলো প্রকৃত দুস্থদের কাছে পৌঁছে দিতে ডিসিদের সচেষ্ট ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

​মানবিক শাসনব্যবস্থা: গাজীপুরের ডিসির এই মহতী উদ্যোগ যদি সারাদেশের জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ জেলায় বাস্তবায়ন করেন, তবে রূপায়িত হবে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার সেই কাঙ্ক্ষিত ‘মানবিক বাংলাদেশ’।