৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাত, ফুডপান্ডার ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বাণিজ্যিক লেনদেনের বিরোধ গড়িয়েছে আদালতে। প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা দুটি মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।
পরোয়ানাভুক্ত অন্যরা হলেন—ফুডপান্ডার কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, ডিরেক্টর ডেলিভারি মো. তাবারেজ খান এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও পরিচালক মোহাম্মদ সাজেদুল হক। তাবারেজ খান ভারতীয় নাগরিক।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম জানান, মামলাগুলোর তদন্ত শেষে গুলশান থানা-পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর আদালত পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পণ্য সরবরাহের পর শুরু হয় বিরোধ
মামলার নথি অনুযায়ী, ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ (পিএনপি) প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির ২০২৪ সালের ৩ জুলাই ফুডপান্ডার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন।
বাদীর অভিযোগ, ২০২২ সালের ২৩ জুন ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে চুক্তি করে দেশীয় ও আমদানি করা সবজি এবং ফল সরবরাহ শুরু করেন তিনি। প্রথম দিকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা হলেও পরবর্তী সময়ে লেনদেনে অনিয়ম শুরু হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এক লাখ টাকার পণ্য কেনার আদেশের বিপরীতে ব্যাংকে মাত্র ১ থেকে ১০০ টাকার মতো নগণ্য পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া হতো। পাশাপাশি ভুয়া ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহার এবং একই দিনে একাধিক ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) স্লিপ তৈরি করে পণ্য ফেরত দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, এসব পদ্ধতিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রাখা হয়। দুই মামলায় মোট প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তে পুলিশের প্রতিবেদনের পর পরোয়ানা
মামলা দুটি আমলে নেওয়ার পর গুলশান থানা-পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
পরে এক মামলায় উপপরিদর্শক মো. মশিউর রহমান এবং অন্য মামলায় উপপরিদর্শক মো. সাখাওয়াত হোসেন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর বুধবার পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ফুডপান্ডার দাবি, এটি বাণিজ্যিক বিরোধ
তবে মামলায় আনা অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় ফুডপান্ডা। প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিযোগকারী অসৎ উদ্দেশ্যে একটি সাধারণ বাণিজ্যিক বিরোধকে ফৌজদারি মামলায় রূপ দিয়েছেন।
ফুডপান্ডার দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।





















