ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউনূস আমলে পদায়ন-পদোন্নতি নিয়ে অভিযোগ, সমাধান লটারিতে নলছিটিতে ২ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেফতার ঝালকাঠিতে কমছে না ডেঙ্গুর দাপট, হাসপাতালে ৪২ রোগী; মৃত্যু ১০ চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট ভাইভা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, ৪ রিটের প্রার্থীদের নেওয়া হবে ভাইভা ৩.৪ শতাংশে আটকে অর্থনীতি, বাড়ছে দারিদ্র্য-আয়বৈষম্য: বিশ্বব্যাংক সিলেটে এবার ৬৩৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, বেড়েছে আয়োজন এলপিজির দাম সমন্বয়ে সরকার বাধ্য হয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা লটারিতে বদলি হলেন ১৩১ সাবরেজিস্ট্রার, ঢাকার ১৮ পদে বাছাই শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

চুল কাটার পর ঘাড় মটকান? ‘আরাম’ ডেকে আনতে পারে স্ট্রোকও

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুল কাটা শেষ হওয়ার পর ঘাড়ে মালিশ, এরপর মাথা দু’দিকে জোরে ঘুরিয়ে ‘মটমট’ শব্দ বের করা—সেলুনে পরিচিত এই দৃশ্য। অনেকের কাছে এটি মুহূর্তের আরাম বা চাপ কমানোর একটি উপায় মনে হলেও চিকিৎসকদের মতে, অসতর্কভাবে ঘাড় মটকানোর এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘাড়ের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী ও স্নায়ুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে বিরল ক্ষেত্রে স্ট্রোক, স্নায়ুর ক্ষতি, এমনকি পক্ষাঘাতের মতো জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

নিউরোসার্জনদের মতে, চুল কাটা বা দাড়ি কামানোর পর ঘাড় মটকানোর প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই রয়েছে। তবে এর কোনো চিকিৎসাগত প্রয়োজন নেই। বরং প্রশিক্ষণ ছাড়া কারও হাতে ঘাড়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ হলে বিপদ তৈরি হতে পারে।

ঘাড়ের দু’পাশ দিয়ে থাকা ভার্টিব্রাল ধমনি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে। আচমকা ও জোরে ঘাড় ঘোরানোর ফলে বিরল ক্ষেত্রে এই ধমনির দেয়ালে ক্ষত তৈরি হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় আর্টেরিয়াল ডিসেকশন বলা হয়। পরে সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হলে স্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ঘাড়ে আঘাতের পর সবসময় সঙ্গে সঙ্গে উপসর্গ দেখা যায় না। কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পরও সমস্যা শুরু হতে পারে।

এ ছাড়া ঘাড়ের মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে থাকা স্নায়ুরজ্জু ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাত-পায়ে দুর্বলতা, অসাড়তা কিংবা গুরুতর ক্ষেত্রে পক্ষাঘাতের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই ঘাড়ের হাড় ক্ষয়, ডিস্কের সমস্যা বা মেরুদণ্ডের জটিলতা রয়েছে, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি।

অনেকে ঘাড় মটকানোর সময় হওয়া ‘মটমট’ শব্দকে স্বস্তির লক্ষণ মনে করেন। তবে চিকিৎসকদের ভাষ্য, এই শব্দ হওয়া মানেই ঘাড়ের জন্য ভালো কিছু ঘটছে—এমনটি নয়। বরং বারবার জোর করে ঘাড় ঘোরালে জয়েন্ট ও লিগামেন্টে চাপ পড়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা বা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি ঘাড় মটকানোর পর এক যুবকের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল হলেও ঝুঁকিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

ঘাড় মটকানোর পর হঠাৎ শরীরের একপাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো, দৃষ্টিতে সমস্যা, তীব্র মাথাব্যথা বা ঘাড়ে প্রচণ্ড ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সেলুনে চুল কাটা বা দাড়ি কামানোর কাজেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। কয়েক মুহূর্তের আরামের জন্য ঘাড়ের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী ও স্নায়ুকে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে না ফেলাই নিরাপদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চুল কাটার পর ঘাড় মটকান? ‘আরাম’ ডেকে আনতে পারে স্ট্রোকও

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুল কাটা শেষ হওয়ার পর ঘাড়ে মালিশ, এরপর মাথা দু’দিকে জোরে ঘুরিয়ে ‘মটমট’ শব্দ বের করা—সেলুনে পরিচিত এই দৃশ্য। অনেকের কাছে এটি মুহূর্তের আরাম বা চাপ কমানোর একটি উপায় মনে হলেও চিকিৎসকদের মতে, অসতর্কভাবে ঘাড় মটকানোর এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘাড়ের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী ও স্নায়ুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে বিরল ক্ষেত্রে স্ট্রোক, স্নায়ুর ক্ষতি, এমনকি পক্ষাঘাতের মতো জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

নিউরোসার্জনদের মতে, চুল কাটা বা দাড়ি কামানোর পর ঘাড় মটকানোর প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই রয়েছে। তবে এর কোনো চিকিৎসাগত প্রয়োজন নেই। বরং প্রশিক্ষণ ছাড়া কারও হাতে ঘাড়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ হলে বিপদ তৈরি হতে পারে।

ঘাড়ের দু’পাশ দিয়ে থাকা ভার্টিব্রাল ধমনি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে। আচমকা ও জোরে ঘাড় ঘোরানোর ফলে বিরল ক্ষেত্রে এই ধমনির দেয়ালে ক্ষত তৈরি হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় আর্টেরিয়াল ডিসেকশন বলা হয়। পরে সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হলে স্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ঘাড়ে আঘাতের পর সবসময় সঙ্গে সঙ্গে উপসর্গ দেখা যায় না। কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পরও সমস্যা শুরু হতে পারে।

এ ছাড়া ঘাড়ের মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে থাকা স্নায়ুরজ্জু ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাত-পায়ে দুর্বলতা, অসাড়তা কিংবা গুরুতর ক্ষেত্রে পক্ষাঘাতের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই ঘাড়ের হাড় ক্ষয়, ডিস্কের সমস্যা বা মেরুদণ্ডের জটিলতা রয়েছে, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি।

অনেকে ঘাড় মটকানোর সময় হওয়া ‘মটমট’ শব্দকে স্বস্তির লক্ষণ মনে করেন। তবে চিকিৎসকদের ভাষ্য, এই শব্দ হওয়া মানেই ঘাড়ের জন্য ভালো কিছু ঘটছে—এমনটি নয়। বরং বারবার জোর করে ঘাড় ঘোরালে জয়েন্ট ও লিগামেন্টে চাপ পড়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা বা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি ঘাড় মটকানোর পর এক যুবকের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল হলেও ঝুঁকিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

ঘাড় মটকানোর পর হঠাৎ শরীরের একপাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো, দৃষ্টিতে সমস্যা, তীব্র মাথাব্যথা বা ঘাড়ে প্রচণ্ড ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সেলুনে চুল কাটা বা দাড়ি কামানোর কাজেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। কয়েক মুহূর্তের আরামের জন্য ঘাড়ের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী ও স্নায়ুকে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে না ফেলাই নিরাপদ।