তিন বছর পর চালু হচ্ছে গভীর সমুদ্র থেকে পাইপলাইনে তেল খালাস

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
নির্মাণ শেষ হওয়ার প্রায় তিন বছর পর অবশেষে বাণিজ্যিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে গভীর সমুদ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল খালাসের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্প। পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠান পিটি পারতামিনা ট্রান্স কন্টিনেন্টালকে পাঁচ বছরের জন্য ঠিকাদার হিসেবে চূড়ান্ত করেছে সরকার।
প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্প চালু হলে গভীর সমুদ্র থেকে দ্রুত, নিরাপদ ও তুলনামূলক কম খরচে জ্বালানি তেল খালাস করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এতে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের আশা করছে সংস্থাটি।
দ্রুত ও ঝুঁকিমুক্তভাবে জ্বালানি তেল খালাসের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৮ সালে ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। চীনের ঋণ ও কারিগরি সহায়তায় শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। পরে চার দফায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে তা দাঁড়ায় ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকায়।
২০২৪ সালের মার্চে প্রকল্পটির মাধ্যমে গভীর সমুদ্র থেকে পাইপলাইনে পরীক্ষামূলকভাবে তেল খালাস করা হয়। মহেশখালীর স্টোরেজ টার্মিনাল থেকে পাইপলাইনে তেল নেওয়া হয় চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। তবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়ায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পরও বাণিজ্যিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি প্রকল্পটি।
সম্প্রতি পাঁচ বছরের জন্য প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পিটি পারতামিনা ট্রান্স কন্টিনেন্টালকে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ১ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা পরিশোধ করবে বিপিসি।
বিপিসির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, মহেশখালী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পতেঙ্গা হয়ে ফতুল্লার গোদনাইল পর্যন্ত তেল পরিবহনের অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে। এখন পরিচালন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দ্রুত বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিপিসি চেয়ারম্যানের ভাষ্য, প্রকল্পটিতে সরকারের বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। তাই দ্রুত এটি চালু করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী মাসে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বিপিসির চুক্তি হতে পারে। এরপর তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়ে আসবে। সব প্রস্তুতি শেষ হলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে তেল খালাস শুরু হতে পারে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পিটি পারতামিনা ট্রান্স কন্টিনেন্টাল বিপিসির পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানির (পিটিসি) কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবে। পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রকল্পটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পিটিসির নিজস্ব জনবলের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
























