জাতিসংঘে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ ভারসাম্যপূর্ণ, বলছেন বিশ্লেষকেরা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৬:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রথম ভাষণকে ভারসাম্যপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বলে অভিমত দিয়েছেন রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, ভাষণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার পাশাপাশি বৈশ্বিক সংকট ও আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে দেশ পুনর্গঠনে সরকারের ‘থ্রি-আর’—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন—কৌশল বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার বিষয়টি তাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় ২০ মিনিটের ভাষণে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, নারী ও যুবসমাজের উন্নয়ন, শিক্ষা ও প্রযুক্তির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, ফিলিস্তিন, অভিবাসন ও বিশ্বশান্তির মতো আন্তর্জাতিক বিষয় তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাষণের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে বৈশ্বিক ইস্যুগুলোকে একই আলোচনায় নিয়ে আসা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ভাষণে যুক্ত করেছেন। নারী ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও শিক্ষা থেকে শুরু করে দেশের পুনর্গঠনের পরিকল্পনাও তিনি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সার্বিকভাবে ভাষণটি ছিল ভারসাম্যপূর্ণ।
ভাষণে দেশের পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে সরকার ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’—এই থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য চলতি অর্থবছরে স্টার্টআপ উদ্যোগে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজ রহমানের মতে, নারী উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণের পদক্ষেপগুলো ভাষণে বিস্তারিতভাবে এসেছে।
ভাষণে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তার ওপরও জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষের কাছে সহজলভ্য করার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি বৈশ্বিক সংকটগুলো নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। জাতিসংঘকে সংলাপ, কূটনীতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমঝোতামূলক বিশ্বব্যবস্থা গঠনের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার প্রত্যাশাও তুলে ধরেছেন তিনি।
























