ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘টুকু আসে, টুকু যায়’—গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সংসদে রুমিনের তীব্র ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জ্বালানি সংকট, ঘন ঘন লোডশেডিং, গ্যাসের অনিশ্চয়তা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের অনিয়ম বোঝাতে তিনি রসিকতার সুরে বলেন, ‘টুকু আসে, টুকু যায়। এ আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের জন্য মানুষকে হাহাকার করতে হচ্ছে, আবার অনেক এলাকায় গ্যাসও মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের সময় এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘৯ শয়ের ওপরে কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে? যারা চাকরি করছেন, তাদের চাকরি কত দিন থাকবে—আল্লাহ মাবুদ জানে।’

সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের বিষয় উল্লেখ করে রুমিন বলেন, এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা অন্যতম। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গেলেই নানা ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তিনি হয় ব্যঙ্গ করেন, না হলে বাকচাতুর্য দিয়ে পুরো বিষয়টি ঢেকে দিতে চান।’ সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রুমিন আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ৬৪ জেলায় ৬৪ জন করে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও মন্দ হতো না।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, বাজারে গিয়ে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দফায় বেড়েছে ডিমের দাম। চালের দামও বেড়েছে, বিশেষ করে মিনিকেট চালের দাম নিয়ে মানুষের ভোগান্তি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দাম যখন দ্বিগুণ হয়ে যায়, যখন আমরা টিসিবির লাইন দেখি…’ তখন সাধারণ মানুষের কষ্টের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া ও নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের বিষয়গুলোও উঠে আসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘টুকু আসে, টুকু যায়’—গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সংসদে রুমিনের তীব্র ক্ষোভ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

জ্বালানি সংকট, ঘন ঘন লোডশেডিং, গ্যাসের অনিশ্চয়তা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের অনিয়ম বোঝাতে তিনি রসিকতার সুরে বলেন, ‘টুকু আসে, টুকু যায়। এ আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের জন্য মানুষকে হাহাকার করতে হচ্ছে, আবার অনেক এলাকায় গ্যাসও মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের সময় এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘৯ শয়ের ওপরে কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে? যারা চাকরি করছেন, তাদের চাকরি কত দিন থাকবে—আল্লাহ মাবুদ জানে।’

সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের বিষয় উল্লেখ করে রুমিন বলেন, এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা অন্যতম। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গেলেই নানা ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তিনি হয় ব্যঙ্গ করেন, না হলে বাকচাতুর্য দিয়ে পুরো বিষয়টি ঢেকে দিতে চান।’ সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রুমিন আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ৬৪ জেলায় ৬৪ জন করে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও মন্দ হতো না।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, বাজারে গিয়ে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দফায় বেড়েছে ডিমের দাম। চালের দামও বেড়েছে, বিশেষ করে মিনিকেট চালের দাম নিয়ে মানুষের ভোগান্তি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দাম যখন দ্বিগুণ হয়ে যায়, যখন আমরা টিসিবির লাইন দেখি…’ তখন সাধারণ মানুষের কষ্টের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া ও নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের বিষয়গুলোও উঠে আসে।