ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধসেই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবে বিপর্যস্ত নেপাল। আকস্মিক হড়পা বানে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছেই। তবে ভয়াবহ এই দুর্যোগের নেপথ্যে ঠিক কী ছিল—তা নিয়ে শুরু থেকেই নানা আলোচনা চলছিল। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে দায়ী করা হলেও পরে সেই তত্ত্ব থেকে সরে এসেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। তাদের বিশ্লেষণ বলছে, ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধস থেকেই এই ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি।
বুধবার দুর্যোগের পর থেকেই নেপাল-চীন সীমান্তে ভূমিকম্পের বিষয়টি সামনে আসে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ইউএসজিএসও জানিয়েছিল, কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার উত্তরে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। পরে ভূকম্পনকেন্দ্রের তথ্য, ভূকম্পন তরঙ্গ ও উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি তাদের মূল্যায়ন সংশোধন করে।
ইউএসজিএসের নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই কম্পন ভূমিকম্পজনিত নয়; বরং হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল। হিমবাহের বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর নিচের দিকে নেমে এসে নদীর গতিপথে বাধা তৈরি করে। এতে পানির চাপ দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেই বাধা ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি, বরফ ও পাথর নিচের দিকে ধেয়ে গিয়ে সৃষ্টি করে ভয়াবহ হড়পা বান।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণেও একই চিত্র উঠে এসেছে। কাঠমান্ডুভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’-এর গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র আধা ঘণ্টায় ত্রিশূলী নদীর পানির স্তর প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞ শাশ্বত সান্যালের ভাষ্য, গত ১৪ মাসে লেন্ডে খোলা নদীতে দুবার বন্যা হয়েছে। এবারের বন্যার পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি হিমবাহ ধসকে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথর নদীর প্রবাহ আটকে দেয়। পরে জমে থাকা পানির অতিরিক্ত চাপেই হঠাৎ ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসে।
ফলে নেপালের এবারের বিপর্যয়কে শুধু আকস্মিক বন্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পর্বতাঞ্চলে হিমবাহ ধস, নদীর গতিপথ আটকে যাওয়া এবং মুহূর্তে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ার সমন্বিত ফলেই তৈরি হয়েছে এই ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ।























