দুপুর হলেই ঘুমে ঢুলে পড়েন? ক্লান্তি নাকি অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫০:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
দুপুর হলেই চোখে ঘুম নেমে আসে, শরীর অবসন্ন লাগে কিংবা কাজের মাঝেই বারবার ঢুলুনি আসে—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। রাতের ঘুম পর্যাপ্ত হওয়ার পরও যদি নিয়মিত দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পায়, তাহলে বিষয়টি একেবারে হেলাফেলা না করাই ভালো।
সাধারণ ক্লান্তি, অনিয়মিত জীবনযাপন কিংবা ঘুমের ঘাটতির পাশাপাশি দিনের বেলার অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাবের পেছনে বিভিন্ন শারীরিক কারণও থাকতে পারে। এর মধ্যে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে শুধু এই উপসর্গ দেখেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
দুপুরে কেন ঘুম পায়?
শরীরের নিজস্ব সার্কাডিয়ান রিদম বা অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ির কারণে দুপুরের দিকে স্বাভাবিকভাবেই সতর্কতা কিছুটা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে দুপুর ২টা থেকে ৪টার মধ্যে অনেকেরই ক্লান্তি বা ঝিমুনি অনুভূত হয়।
তবে জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস এই ঝিমুনিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন—
- অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
- পর্যাপ্ত পানি না পান করা
- খাবারে প্রোটিনের ঘাটতি থাকা
- দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা
- শারীরিক পরিশ্রম বা হাঁটাচলা কম করা
- রাতে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম না হওয়া
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির ভূমিকা
ভিটামিন ডি শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতির সঙ্গে ক্লান্তি ও দুর্বলতার সম্পর্ক থাকতে পারে। পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পাওয়া, দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকা এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে কারও কারও শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কমে যেতে পারে।
তবে দিনের বেলায় ঘুম পাওয়ার একমাত্র কারণ ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি নয়। রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, ঘুমের ব্যাধি, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণেও অতিরিক্ত দিনের ঘুম হতে পারে।
ঝিমুনি কাটাতে কী করবেন?
দুপুরের খাবারের পর অল্প সময় হাঁটাহাঁটি করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ভারী খাবারের পরিবর্তে সুষম খাবার খাওয়া উপকারী হতে পারে। নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
সূর্যালোক গ্রহণ ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়ক হলেও কতক্ষণ ও কীভাবে সূর্যালোক গ্রহণ করবেন, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টও পরীক্ষা বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত শুরু করা উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি পর্যাপ্ত ঘুমের পরও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দিনের ঘুম, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা কাজে মনোযোগের সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে গাড়ি চালানো, যন্ত্রপাতি পরিচালনা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় অনিয়ন্ত্রিত ঘুমের প্রবণতা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দুপুরের সামান্য ঝিমুনি স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু প্রতিদিনের অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাবকে শুধু ‘ক্লান্তি’ বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।





















