ভোরের একটি ভিডিও কল, তারপর নিথর রিধি—থেমে গেল এক জীবন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। রাজধানীর ভাটারার একটি বাসায় চলছিল দিনের শুরু। কিন্তু সেই ভোরেই ঘটে গেল মর্মান্তিক এক ঘটনা। জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো কেটে গেল একটি ভিডিও কলের মধ্যে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ছয়টার দিকে ভাটারা এলাকার একটি বাসা থেকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ঠিক কী কারণে এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত, তা জানতে তদন্ত চলছে।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, রিধির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, একজনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ভোরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা-কাটাকাটি হয় বলে পরিবারের ভাষ্য। একপর্যায়ে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই রিধি আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
তবে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
পর্দায় যাঁকে দেখা যেত প্রাণবন্ত, আজ তাঁর ঘরে নেমে এসেছে নীরবতা
মডেলিং ও অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন রিধিকা রিধি। নাটকের পর্দায় কখনো হাসি, কখনো অভিমান, কখনো নানা চরিত্রে তাঁকে দেখেছেন দর্শক।
‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’, ‘সুন্দরী’সহ বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। নিয়মিত নাটকে কাজ করায় বিনোদন অঙ্গনেও তৈরি হয়েছিল তাঁর পরিচিতি।
যে মানুষটিকে দর্শকরা পর্দায় প্রাণবন্ত চরিত্রে দেখেছেন, সেই মানুষটির আকস্মিক মৃত্যু এখন পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে তৈরি করেছে গভীর শোক।
একটি কলের পরই সব শেষ?
রিধির মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ভিডিও কলে কার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, কী নিয়ে বিরোধ হয়েছিল, কিংবা তার আগে কোনো মানসিক চাপ বা অন্য কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পরিবারের সদস্যরা এখন থানায় রয়েছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্তও চলছে।
একজন তরুণ শিল্পীর জীবনের এমন আকস্মিক সমাপ্তি আবারও মনে করিয়ে দেয়—মানুষের হাসির আড়ালে কখনো কখনো এমন গভীর কষ্ট লুকিয়ে থাকতে পারে, যা কাছের মানুষদের কাছেও অদৃশ্য থেকে যায়।
রিধিকার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তেই স্পষ্ট হবে। কিন্তু তাঁর পরিবার ও স্বজনদের কাছে এই ভোরটি হয়ে থাকবে এমন এক স্মৃতি, যে ভোরে একটি ফোনকলের পর হঠাৎ করেই থেমে গেল একটি সম্ভাবনাময় জীবন।





















