ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আবারও কমল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনভর ব্যস্ততায় জমে ওঠা মার্কেটগুলোতে সন্ধ্যা নামলেই ধীরে ধীরে কমবে মানুষের ভিড়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে বন্ধ হয়ে যাবে দোকানের শাটার। ব্যবসা গুটিয়ে কর্মচারীরা ফিরবেন ঘরে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে এবার বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধের সময় আরও এক ঘণ্টা এগিয়ে আনল সরকার।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে। বুধবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই উদ্যোগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে সন্ধ্যার পরের ব্যবসায়। বিশেষ করে যেসব দোকান ও মার্কেট রাত পর্যন্ত খোলা রেখে দিনের শেষ ভাগে ক্রেতার অপেক্ষায় থাকেন, তাঁদের এখন রাত ৮টার মধ্যেই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে।

সন্ধ্যার পর কমবে আলোর ঝলকানি

শুধু দোকানপাটের সময় কমানো নয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের আলোকসজ্জাও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠেয় বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।

তবে মানুষের জরুরি প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রেখে কিছু প্রতিষ্ঠান এই বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে। খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকানসহ জরুরি প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের পরও চালু রাখা যাবে।

বারবার বদলেছে দোকান বন্ধের সময়

জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কারণে গত কয়েক মাসে দোকানপাট বন্ধের সময় একাধিকবার পরিবর্তন করেছে সরকার।

গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর প্রথমে দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়। ঈদুল আজহার আগে কিছুটা শিথিলতাও দেওয়া হয়েছিল।

এরপর গত ১১ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকানপাট বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।

মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এবার সেই সময় আরও এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হলো।

ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়ছে চাপ

দোকান বন্ধের সময় কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। দিনের বড় একটি অংশ পার হওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে অনেক দোকানে ক্রেতা বাড়ে। বিশেষ করে মার্কেট ও শপিং এলাকায় কর্মজীবী মানুষ অফিস শেষে কেনাকাটা করতে আসেন।

এখন তাঁদের রাত ৮টার মধ্যেই ব্যবসা শেষ করতে হবে। ফলে দোকান মালিকদের যেমন বিক্রির সময় কমবে, তেমনি কর্মচারীদের কাজের সময় ও দৈনিক আয়ের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে সরকারের যুক্তি—জ্বালানি সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এই মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব দেশের বাজারেও

সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পেছনে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর। ফলে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

একদিকে ব্যবসার সময় কমছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য কমছে রাতের আলোকসজ্জা ও বিলবোর্ডের আলো। আপাতদৃষ্টিতে ছোট ছোট এসব সিদ্ধান্তের লক্ষ্য একটাই—সংকটের সময়ে সীমিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ দিয়ে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া।

তবে এই সাশ্রয়ের ভার যেন শেষ পর্যন্ত শুধু ব্যবসায়ী, দোকান কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আবারও কমল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সময়

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দিনভর ব্যস্ততায় জমে ওঠা মার্কেটগুলোতে সন্ধ্যা নামলেই ধীরে ধীরে কমবে মানুষের ভিড়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে বন্ধ হয়ে যাবে দোকানের শাটার। ব্যবসা গুটিয়ে কর্মচারীরা ফিরবেন ঘরে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে এবার বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধের সময় আরও এক ঘণ্টা এগিয়ে আনল সরকার।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে। বুধবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই উদ্যোগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে সন্ধ্যার পরের ব্যবসায়। বিশেষ করে যেসব দোকান ও মার্কেট রাত পর্যন্ত খোলা রেখে দিনের শেষ ভাগে ক্রেতার অপেক্ষায় থাকেন, তাঁদের এখন রাত ৮টার মধ্যেই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে।

সন্ধ্যার পর কমবে আলোর ঝলকানি

শুধু দোকানপাটের সময় কমানো নয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের আলোকসজ্জাও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠেয় বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।

তবে মানুষের জরুরি প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রেখে কিছু প্রতিষ্ঠান এই বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে। খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকানসহ জরুরি প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের পরও চালু রাখা যাবে।

বারবার বদলেছে দোকান বন্ধের সময়

জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কারণে গত কয়েক মাসে দোকানপাট বন্ধের সময় একাধিকবার পরিবর্তন করেছে সরকার।

গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর প্রথমে দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়। ঈদুল আজহার আগে কিছুটা শিথিলতাও দেওয়া হয়েছিল।

এরপর গত ১১ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকানপাট বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।

মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এবার সেই সময় আরও এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হলো।

ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়ছে চাপ

দোকান বন্ধের সময় কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। দিনের বড় একটি অংশ পার হওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে অনেক দোকানে ক্রেতা বাড়ে। বিশেষ করে মার্কেট ও শপিং এলাকায় কর্মজীবী মানুষ অফিস শেষে কেনাকাটা করতে আসেন।

এখন তাঁদের রাত ৮টার মধ্যেই ব্যবসা শেষ করতে হবে। ফলে দোকান মালিকদের যেমন বিক্রির সময় কমবে, তেমনি কর্মচারীদের কাজের সময় ও দৈনিক আয়ের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে সরকারের যুক্তি—জ্বালানি সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এই মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব দেশের বাজারেও

সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পেছনে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর। ফলে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

একদিকে ব্যবসার সময় কমছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য কমছে রাতের আলোকসজ্জা ও বিলবোর্ডের আলো। আপাতদৃষ্টিতে ছোট ছোট এসব সিদ্ধান্তের লক্ষ্য একটাই—সংকটের সময়ে সীমিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ দিয়ে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া।

তবে এই সাশ্রয়ের ভার যেন শেষ পর্যন্ত শুধু ব্যবসায়ী, দোকান কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।