সাড়ে ৩ হাজার এতিম ও মাদরাসাশিক্ষার্থীর খাবারের আয়োজন করলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
একমাত্র ছেলের সুন্নাতে খতনাকে ঘিরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন না করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছেলে মো. সাফারাত ওয়াসিত বিন সালাউদ্দিনের খতনা উপলক্ষে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারটি মাদরাসা ও এতিমখানার প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর জন্য একবেলার খাবারের আয়োজন করেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার ধুলেরচর, বেবিস্ট্যান্ড, বাজিতপুর এবং ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের চারটি মাদরাসা ও এতিমখানায় এ খাবার বিতরণ করা হয়। খাবার পরিবেশনের আগে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মুসল্লিদের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে এসে ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের জামিয়া আল-হেরা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন প্রতিমন্ত্রী। নামাজের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি জানান, ইসলামে খতনা উপলক্ষে অযথা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সে কারণেই আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে এতিম ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমার একমাত্র ছেলে গুলশানের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা করলেও সেখানে ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। এ বছর সে হিফজ শুরু করেছে। সম্প্রতি তার খতনা সম্পন্ন হয়েছে। তাই এ উপলক্ষে উৎসব না করে এতিম ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমিও আজ তাদের সঙ্গে বসেই খাবার গ্রহণ করব।”
তিনি এ সময় ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের জন্য উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে দোয়া কামনা করেন।
জুমার নামাজ শেষে প্রতিমন্ত্রী জামিয়া আল-হেরা মাদরাসার প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে একসঙ্গে বসে মধ্যাহ্নভোজ করেন। শিক্ষার্থীদের জন্য গরুর মাংস, ডাল, দইসহ বিভিন্ন খাবারের আয়োজন করা হয় এবং প্রতিমন্ত্রীও একই খাবার গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল হক শানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য আব্দুল্লাহিল কাফিসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, মসজিদের ইমাম, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজ সন্তানের খতনা উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক জাঁকজমক পরিহার করে এতিম ও মাদরাসাশিক্ষার্থীদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়ার এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
























