মিশরের গোল বাতিল, ফাউল নিয়ে যেসব বিতর্ক

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর নাটকীয় ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে হারের পর শুধু বিদায় নয়, রেফারিং নিয়েও তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে মিশর। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে ভিএআরের সিদ্ধান্তে একটি গোল বাতিল এবং আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে ফাউলের আবেদন নাকচ হওয়াকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিশরের কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, মাঠের ভেতর ও বাইরের কিছু সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল বদলে দিয়েছে। তার দাবি, ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা রেফারির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল, যার প্রভাব ম্যাচ পরিচালনায় পড়েছে।
একই অভিযোগ করেছেন মিশরের কয়েকজন ফুটবলারও। ম্যাচ শেষে গোলদাতা মোস্তফা জিকো আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এবং বিশ্বকাপ যেন আগেই আর্জেন্টিনার জন্য নির্ধারিত ছিল।

ভিএআরে বাতিল হয় মিশরের গোল
দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকাকালে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে সালাহর পাসে বল জালে পাঠান মোস্তফা জিকো। গোল উদযাপনও শুরু হয়ে যায়।
কিন্তু এরপর ভিএআরের পরামর্শে রেফারি খেলা থামিয়ে রিপ্লে দেখেন। সেখানে দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর সময় মিশরের মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে স্টাড লাগিয়েছিলেন। সেই ফাউলের ধারাবাহিকতায় গোলটি বাতিল করা হয়।
ফাউল হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তেমন বিতর্ক না থাকলেও প্রশ্ন উঠেছে, এত দীর্ঘ সময় খেলা চলার পর গোল হওয়ার পর কেন সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো। যদিও চলতি বিশ্বকাপে ভিএআরের সহায়তায় বিলম্বিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ঘটনা একাধিকবার দেখা গেছে।
তবুও সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকদের একাংশ গোল বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। সাবেক ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরি এটিকে “ফুটবলের জন্য অন্যায়” বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে সাবেক মেক্সিকান স্ট্রাইকার হাভিয়ের হার্নান্দেজের মতে, ওই ফাউলটি এতটা গুরুতর ছিল না যে গোল বাতিল করতে হবে।
সালাহকে ফাউল, কিন্তু ভিএআর নীরব
বিতর্কের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয় ম্যাচের ৯২ মিনিটে। আর্জেন্টিনার জয়সূচক আক্রমণ শুরুর আগে হুলিয়ান আলভারেজ বল নেওয়ার সময় মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল বলে দাবি করে মিশর।
মিশরের খেলোয়াড়রা রেফারির কাছে আপিল করলেও তিনি খেলা চালিয়ে যেতে বলেন এবং ভিএআর রিভিউও নেননি। এরপর সেই আক্রমণ থেকেই এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার ইয়ান রাইট। তার মতে, সালাহর ওপর ফাউলের ঘটনাটি অন্তত ভিএআরে দেখা উচিত ছিল এবং সেটি বিবেচনায় নিলে গোলটি বাতিল হতে পারত।
তবে সাবেক অধিনায়ক রয় কিন ভিন্ন মত দেন। তার ভাষ্য, সালাহ খুব সহজেই ভারসাম্য হারিয়েছিলেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, বড় দলগুলো প্রায়ই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সুবিধা পেয়ে থাকে।
আর্জেন্টিনার দাবি, জয় এসেছে লড়াই থেকে
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা শিবির রেফারিং বিতর্কে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেন, ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটিই এই জয়ের সবচেয়ে বড় কারণ।
তার ভাষায়, এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা প্রমাণ করেছে, কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা কখনো হাল ছেড়ে দেয় না।



















