ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোগীদের জিম্মি করে দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব বদল, প্রশাসন সংস্কারের বার্তা রাখাইনে সংঘাতের জেরে নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা ‘রাতের ভোটর’ ডিসি, ৩২ যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে ফুটবল মাঠের পর্দা পেরিয়ে হলিউডে রোনাল্ডো মন্ত্রীদের পুলিশ প্রটোকল তুলে নিল কেন, কতদিন কার্যকর থাকবে? ইউক্রেন যুদ্ধে যৌন নির্যাতনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার রুশ সেনার! ‘মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি রাখুন, না হলে ফের ধর্নায় বসব!’ টাঙ্গাইলে মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন, আরেকজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে, আত্মগঠনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধানে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সব পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম পথ অনুসরণ করছে। অতীতে ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের সফল প্রত্যাবাসনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারও সেই নীতির ধারাবাহিকতায় মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে জাতিসংঘ, দাতা সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইউএনএইচসিআর, ইউএন উইমেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে এবং মানবিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে।

সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মিয়ানমারের জান্তা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপ, রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই (ভেরিফিকেশন) এবং তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের উদ্যোগও চলমান রয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে জটিল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর।

ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধানে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সব পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম পথ অনুসরণ করছে। অতীতে ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের সফল প্রত্যাবাসনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারও সেই নীতির ধারাবাহিকতায় মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে জাতিসংঘ, দাতা সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইউএনএইচসিআর, ইউএন উইমেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে এবং মানবিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে।

সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মিয়ানমারের জান্তা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপ, রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই (ভেরিফিকেশন) এবং তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের উদ্যোগও চলমান রয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে জটিল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর।

ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।