ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাখাইনে সংঘাতের জেরে নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা ‘রাতের ভোটর’ ডিসি, ৩২ যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে ফুটবল মাঠের পর্দা পেরিয়ে হলিউডে রোনাল্ডো মন্ত্রীদের পুলিশ প্রটোকল তুলে নিল কেন, কতদিন কার্যকর থাকবে? ইউক্রেন যুদ্ধে যৌন নির্যাতনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার রুশ সেনার! ‘মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি রাখুন, না হলে ফের ধর্নায় বসব!’ টাঙ্গাইলে মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন, আরেকজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে, আত্মগঠনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীন গণমাধ্যমের নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নিজ উপজেলায় বিআরডিবি কর্মকর্তার বদলি নিয়ে প্রশ্ন, উঠেছে নানা অভিযোগ

‘রাতের ভোটর’ ডিসি, ৩২ যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৪:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকার একযোগে ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোমবার (২৭ জুলাই) এ আদেশ জারি করা হয়। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা এতদিন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া প্রয়োজন বলে সরকার মনে করেছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তারা অবসর-পরবর্তী সব সুবিধা পাবেন।

নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পদাধিকারবলে তারা ওই নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বেও ছিলেন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। ভোটগ্রহণের আগের রাতেই অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোট সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগের কারণে নির্বাচনটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এবং ‘রাতের ভোট’ বা ‘নিশিরাতের নির্বাচন’ নামে পরিচিতি পায়। যদিও তৎকালীন সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনী অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। সে সময় এসব কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওএসডি করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় পাঁচ মাস পর এবার তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করল।

এর আগে একই ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ৩৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্টদের অনেকেই ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

যাদের বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হলো:

গোপাল চন্দ্র দাশ, এস এম ফেরদৌস, এস এম আব্দুল কাদের, মো. আলী আকবর, মাহমুদুল কবীর মুরাদ, মো: সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, মিস সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, ড. মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, আনার কলি মাহবুব, মোছা: সুলতানা পারভীন, নাজিয়া শিরিন, মো: মতিউল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, এ এস. এম. অজিয়র রহমান, মো: ওয়াহিদুজ্জামান, মো: শহিদুল ইসলাম, সরোজ কুমার নাথ, মো: জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, মো: কামাল হোসেন, এ কে এম মামুনুর রশিদ, অঞ্জন চন্দ্র পাল, মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, মো: মিজানুর রহমান, এ জেড এম নুরুল হক, কাজী আবু তাহের, মো: শাহরিয়ার, মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, মঈনউল ইসলাম, মো: আসলাম হোসেন, মো: আবুল ফজল মীর এবং মো: মাজেদুর রহমান খান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘রাতের ভোটর’ ডিসি, ৩২ যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৪:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

সরকার একযোগে ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোমবার (২৭ জুলাই) এ আদেশ জারি করা হয়। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা এতদিন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া প্রয়োজন বলে সরকার মনে করেছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তারা অবসর-পরবর্তী সব সুবিধা পাবেন।

নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পদাধিকারবলে তারা ওই নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বেও ছিলেন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। ভোটগ্রহণের আগের রাতেই অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোট সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগের কারণে নির্বাচনটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এবং ‘রাতের ভোট’ বা ‘নিশিরাতের নির্বাচন’ নামে পরিচিতি পায়। যদিও তৎকালীন সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনী অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। সে সময় এসব কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওএসডি করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় পাঁচ মাস পর এবার তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করল।

এর আগে একই ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ৩৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্টদের অনেকেই ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

যাদের বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হলো:

গোপাল চন্দ্র দাশ, এস এম ফেরদৌস, এস এম আব্দুল কাদের, মো. আলী আকবর, মাহমুদুল কবীর মুরাদ, মো: সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, মিস সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, ড. মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, আনার কলি মাহবুব, মোছা: সুলতানা পারভীন, নাজিয়া শিরিন, মো: মতিউল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, এ এস. এম. অজিয়র রহমান, মো: ওয়াহিদুজ্জামান, মো: শহিদুল ইসলাম, সরোজ কুমার নাথ, মো: জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, মো: কামাল হোসেন, এ কে এম মামুনুর রশিদ, অঞ্জন চন্দ্র পাল, মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, মো: মিজানুর রহমান, এ জেড এম নুরুল হক, কাজী আবু তাহের, মো: শাহরিয়ার, মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, মঈনউল ইসলাম, মো: আসলাম হোসেন, মো: আবুল ফজল মীর এবং মো: মাজেদুর রহমান খান।