মন্ত্রীদের পুলিশ প্রটোকল তুলে নিল কেন, কতদিন কার্যকর থাকবে?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৮:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীতে চলাচলের সময় অধিকাংশ মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ থাকা পুলিশ প্রটোকল বা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করেছে সরকার। গত ২০ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে ঢাকায় কেবল প্রধানমন্ত্রী এবং কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীই বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা পাচ্ছেন। সরকারের দাবি, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং পুলিশ সদস্যদের জননিরাপত্তার কাজে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নিজের নিরাপত্তা বহরে থাকা পুলিশের সংখ্যা কমিয়ে এনেছেন। তার মূল নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ)।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রীর মধ্যে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ছয়জন মন্ত্রী ঢাকার মধ্যে পুলিশ প্রটোকল পাচ্ছেন। তারা হলেন— স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে কেবল পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এই সুবিধা পাচ্ছেন।
অন্যদিকে আইন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক পরিবহন, কৃষি, তথ্য, বাণিজ্য, গৃহায়ণ, পরিবেশ, সংস্কৃতি, ধর্ম, শ্রম, মুক্তিযুদ্ধ, পর্যটনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মোট ১৮ জন মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে সরকারি সফরে ঢাকার বাইরে গেলে তারা আগের মতোই পুলিশ প্রটোকল পাবেন।
সরকারের এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগেই প্রশাসনিক ব্যয় কমানো এবং জনগণের করের অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, একজন মন্ত্রীর নিরাপত্তায় সাধারণত একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও চারজন কনস্টেবলসহ পাঁচ সদস্যের একটি দল দায়িত্ব পালন করে। ফলে ১৮ জন মন্ত্রীর প্রটোকল প্রত্যাহারের মাধ্যমে প্রায় ৯০ জন পুলিশ সদস্যকে এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও তদন্ত কার্যক্রমে নিয়োজিত করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রটোকলে ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যাও ২৫টি থেকে কমে সাতটিতে নেমে এসেছে, যা জ্বালানি ব্যয় ও যানবাহনের চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
পুলিশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে থানাগুলোতে জনবল ও যানবাহনের সংকট কিছুটা কমবে এবং সাধারণ মানুষের সেবায় পুলিশ আরও বেশি সময় দিতে পারবে।
সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এটি সাময়িক নয়; বরং পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সিদ্ধান্তটি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় ও সম্পদের অপচয় কমাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।






















