‘মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি রাখুন, না হলে ফের ধর্নায় বসব!’

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৭:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও আটক ব্যক্তিদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনটির দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার শর্ত এখনো পূরণ করেনি।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির নেতারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে মঙ্গলবারের মধ্যে লিখিত চুক্তি সম্পন্ন হবে। কিন্তু এখনো পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসমসহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও মামলা অব্যাহত রয়েছে।
নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তিনি ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। এরপর দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সিজেপির প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে সংগঠনটি দাবি করেছিল, তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ায় তারা দিল্লির যন্তর মন্তরের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করছে।
তবে সিজেপির অভিযোগ, বাস্তবে সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। সংগঠনটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবারের মধ্যে লিখিত নিশ্চয়তা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামবেন।
জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাও একই অভিযোগ তুলে বলেন, সরকার চুক্তিভঙ্গ করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আইনজীবী কপিল সিব্বল আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার জন্য এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান সিজেপি নেতারা। এ লক্ষ্যে ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহের জন্য একটি ওয়েবসাইটও চালু করেছে সংগঠনটি।
এদিকে ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-এর জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা অভিযোগ করেন, বিহারে অন্তত ৫০০ আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এসব মামলা প্রত্যাহার ও আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়। তবে সহিংসতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে প্রশ্নফাঁস রোধে কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেছে। তবে প্রশ্নফাঁস ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের তীব্র হট্টগোলের কারণে বিলটি নিয়ে কোনো আলোচনা ছাড়াই লোকসভার অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়।
এদিন শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর প্রথমবার সংসদে যান ধর্মেন্দ্র প্রধান। সংসদ প্রাঙ্গণে এনডিএ জোটের সংসদ সদস্যরা তাকে স্বাগত জানান। এ সময় কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের সঙ্গে তার বাক্যবিনিময়ও হয়।





















