সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতায় বিজিবি-কোস্টগার্ড
রাখাইনে সংঘাতের জেরে নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাত ও বিমান হামলা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। একই সঙ্গে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) জানিয়েছে, বর্তমানে নতুন করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত তীব্র হওয়ায় নিরাপত্তার খোঁজে কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তবে সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিয়মিত টহলের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের জন্যও পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন, যা প্রাণহানির আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি জানান, রাখাইনে চলমান বিমান হামলা ও সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নতুন করে সীমান্তমুখী হওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। তার ভাষ্য, প্রতি সপ্তাহেই ৩০ থেকে ৫০ জনের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কমিশনার আরও বলেন, নতুন করে মাতৃভূমি ছেড়ে চলে এলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়বে। তাই রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতাদের মাধ্যমে রাখাইনে অবস্থানরত মানুষকে নিজ দেশে থাকার জন্য উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাখাইনে বর্তমানে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বলে ধারণা করছে কমিশন। এছাড়া প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের অন্য অঞ্চলে, বিশেষ করে ইয়াঙ্গুনের দিকে চলে গেছে বলেও সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং উখিয়া সীমান্ত পর্যন্ত নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে বিজিবি। কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. খায়রুল আলম বলেন, রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। অবৈধভাবে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে শনাক্ত ও প্রতিরোধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে এবং প্রতিবেশী দেশের কোনো নাগরিককে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
নাফ নদীকেন্দ্রিক সীমান্ত এলাকাতেও টহল জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন জানান, আধুনিক জলযান, ড্রোন প্রযুক্তি এবং স্থল টহলের সমন্বয়ে ২৪ ঘণ্টা সীমান্ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা গেলে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাখাইনের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে সীমান্তের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি। তবে সম্ভাব্য নতুন রোহিঙ্গা ঢল ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।






















