ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—ভোজিনহার চোখে কী রোগ?

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় আসেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। লিওনেল মেসিদের একের পর এক আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি তার চোখের অস্বাভাবিক অবস্থা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, ভোজিনহার চোখে আসলে কী হয়েছে?

ভোজিনহার প্রকৃত নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। তিনি টেরিজিয়াম (Pterygium) নামে পরিচিত একটি চোখের রোগে ভুগছেন। এ রোগে চোখের সাদা অংশে মাংসল টিস্যু অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ধীরে ধীরে কর্নিয়ার ওপর ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি দৃষ্টিশক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

টেরিজিয়াম কী?

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, টেরিজিয়াম হলো চোখের কনজাংকটিভা থেকে কর্নিয়ার দিকে বাড়তে থাকা অস্বাভাবিক টিস্যু। এটি সাধারণত ক্যানসার নয়, তবে বড় হয়ে গেলে কর্নিয়ার আকৃতি পরিবর্তন করে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা করে দিতে পারে।

যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

  • চোখ লাল হয়ে যাওয়া
  • জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি
  • চোখ শুষ্ক অনুভব হওয়া
  • চোখে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি
  • ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া

কেন হয় এই রোগ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন তীব্র রোদ, অতিবেগুনি (UV) রশ্মি, ধুলোবালি ও শুষ্ক পরিবেশে কাজ করলে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে। কেপ ভার্দের মতো রৌদ্রপ্রধান দেশে বেড়ে ওঠা এবং দীর্ঘ সময় খোলা মাঠে ফুটবল খেলার কারণে ভোজিনহার ক্ষেত্রে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিকিৎসা কী?

টেরিজিয়াম পুরোপুরি দূর করার কোনো ওষুধ নেই। তবে কৃত্রিম অশ্রু (Artificial Tears) ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আই ড্রপ ব্যবহার করে জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

যদি টিস্যু বড় হয়ে কর্নিয়া ঢেকে ফেলে, দৃষ্টিশক্তি ব্যাহত করে বা বারবার প্রদাহ সৃষ্টি করে, তাহলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে কনজাংকটিভাল অটোগ্রাফট পদ্ধতিকে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ করে রোগীর নিজের সুস্থ কনজাংকটিভার অংশ প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রয়োজনে মাইটোমাইসিন-সি ব্যবহার করে রোগটি পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকিও কমানো হয়।

চোখে এ ধরনের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ভোজিনহার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যথাযথ চিকিৎসা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে শারীরিক সীমাবদ্ধতাও সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চোখে এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—ভোজিনহার চোখে কী রোগ?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় আসেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। লিওনেল মেসিদের একের পর এক আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি তার চোখের অস্বাভাবিক অবস্থা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, ভোজিনহার চোখে আসলে কী হয়েছে?

ভোজিনহার প্রকৃত নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। তিনি টেরিজিয়াম (Pterygium) নামে পরিচিত একটি চোখের রোগে ভুগছেন। এ রোগে চোখের সাদা অংশে মাংসল টিস্যু অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ধীরে ধীরে কর্নিয়ার ওপর ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি দৃষ্টিশক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

টেরিজিয়াম কী?

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, টেরিজিয়াম হলো চোখের কনজাংকটিভা থেকে কর্নিয়ার দিকে বাড়তে থাকা অস্বাভাবিক টিস্যু। এটি সাধারণত ক্যানসার নয়, তবে বড় হয়ে গেলে কর্নিয়ার আকৃতি পরিবর্তন করে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা করে দিতে পারে।

যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

  • চোখ লাল হয়ে যাওয়া
  • জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি
  • চোখ শুষ্ক অনুভব হওয়া
  • চোখে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি
  • ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া

কেন হয় এই রোগ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন তীব্র রোদ, অতিবেগুনি (UV) রশ্মি, ধুলোবালি ও শুষ্ক পরিবেশে কাজ করলে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে। কেপ ভার্দের মতো রৌদ্রপ্রধান দেশে বেড়ে ওঠা এবং দীর্ঘ সময় খোলা মাঠে ফুটবল খেলার কারণে ভোজিনহার ক্ষেত্রে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিকিৎসা কী?

টেরিজিয়াম পুরোপুরি দূর করার কোনো ওষুধ নেই। তবে কৃত্রিম অশ্রু (Artificial Tears) ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আই ড্রপ ব্যবহার করে জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

যদি টিস্যু বড় হয়ে কর্নিয়া ঢেকে ফেলে, দৃষ্টিশক্তি ব্যাহত করে বা বারবার প্রদাহ সৃষ্টি করে, তাহলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে কনজাংকটিভাল অটোগ্রাফট পদ্ধতিকে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ করে রোগীর নিজের সুস্থ কনজাংকটিভার অংশ প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রয়োজনে মাইটোমাইসিন-সি ব্যবহার করে রোগটি পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকিও কমানো হয়।

চোখে এ ধরনের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ভোজিনহার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যথাযথ চিকিৎসা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে শারীরিক সীমাবদ্ধতাও সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চোখে এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।