ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শয্যা সঙ্কট, হাসপাতালের বারান্দায় চলছে চিকিৎসা প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্য গড়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী যশোরে জিলা স্কুলে ১০ তলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এত লোডশেডিং কেন? গ্যাস-কয়লা সংকটেই বাড়ছে বিদ্যুতের ভোগান্তি ইউরোপের পর তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ গ্রিডে রেকর্ড চাপ রেকর্ডের পর রেকর্ড মেসির, পেলে-মারাদোনাকেও ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস কেন খামেনেইয়ের শেষকৃত্য এত দেরিতে? কোথায় ছিল দেহ? রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতার ইতিহাসেই জন্ম আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সির যশোরে র‍্যাবের অভিযান, উদ্ধার বিরল প্রজাতির ২ তক্ষক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই গণমাধ্যমের মূল শক্তি: তথ্যমন্ত্রী

প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্য গড়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, এটি সমগ্র জাতির অর্জন। প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শোক ও বিজয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও নির্যাতনের শিকার প্রত্যেকের আত্মত্যাগ রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। তবে বিচারের নামে যেন কোনো অবিচার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী সরকার বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। নতুন বাংলাদেশে সেই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে সময় নিয়ে হলেও আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা হবে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের অন্যায়-অত্যাচার, মানসিক নির্যাতন ও সহকর্মীদের আত্মত্যাগের স্মৃতি এখনও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তবুও প্রতিশোধ নয়, দেশের মানুষের স্বার্থে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, “যদি আজ আমার মা বা ভাইকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম—এত নির্যাতনের প্রতিশোধ নেওয়া উচিত কি না, তারাও বলতেন, প্রতিহিংসা নয়; দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে তাদের আদর্শ ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। দেশের উন্নয়নই হবে তাদের আত্মত্যাগের সর্বোত্তম স্বীকৃতি।

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিভক্ত জাতি কখনও উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। তাই দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্য গড়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, এটি সমগ্র জাতির অর্জন। প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শোক ও বিজয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও নির্যাতনের শিকার প্রত্যেকের আত্মত্যাগ রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। তবে বিচারের নামে যেন কোনো অবিচার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী সরকার বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। নতুন বাংলাদেশে সেই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে সময় নিয়ে হলেও আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা হবে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের অন্যায়-অত্যাচার, মানসিক নির্যাতন ও সহকর্মীদের আত্মত্যাগের স্মৃতি এখনও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তবুও প্রতিশোধ নয়, দেশের মানুষের স্বার্থে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, “যদি আজ আমার মা বা ভাইকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম—এত নির্যাতনের প্রতিশোধ নেওয়া উচিত কি না, তারাও বলতেন, প্রতিহিংসা নয়; দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে তাদের আদর্শ ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। দেশের উন্নয়নই হবে তাদের আত্মত্যাগের সর্বোত্তম স্বীকৃতি।

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিভক্ত জাতি কখনও উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। তাই দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।