ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবিত দম্পতির ‘জানাজা’, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় জীবিত এক দম্পতির জানাজা পড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের উখরইল গ্রামের আব্দুল হাই বাবুর বাড়িতে ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৯ জুন) দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ৩০ জন নারী-পুরুষ সাধু আব্দুল হাই বাবু ও তার স্ত্রী মালেকা বেগমকে জীবিত অবস্থায় বরই পাতার গরম পানিতে গোসল করান। পরে তাদের কাফনের কাপড় পরিয়ে বসিয়ে রেখে সাদা পোশাক পরিহিত সাধুরা জানাজার নামাজ আদায় করেন।

জানাজার পর তাদের হাত ও চোখ সাদা কাপড়ে বেঁধে হাতে লাঠি ও মালা ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রতীকীভাবে অর্থ প্রদান করা হয় এবং কয়েকটি বাড়িতে ভিক্ষাও করানো হয়। পরদিন সেখানে গান-বাজনার আয়োজন করা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাতে বাধা দেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল হাই বাবু কিংবা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অন্য কোনো সাধুকে পাওয়া যায়নি।

আব্দুল হাই বাবুর মেয়ে হালিমা আক্তার জানান, তারা চার ভাই ও এক বোন। বাবা-মা নিজেদের ইচ্ছায় যে জীবনধারা অনুসরণ করছেন, তাতে পরিবারের কোনো আপত্তি নেই।

তিনি দাবি করেন, ইসলামের চার তরিকার একটি ধারার রীতিনীতি অনুযায়ী সংসার জীবন ত্যাগ করে ফকিরি জীবন গ্রহণের অংশ হিসেবেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এতে তারা কোনো অসঙ্গতি দেখছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল আলম, মজিবর রহমানসহ কয়েকজন জানান, আব্দুল হাই বাবু ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ফকিরি ধারার অনুসারী। সংসার ত্যাগের প্রতীকী আনুষ্ঠানিকতা হিসেবেই জীবিত অবস্থায় তাদের জানাজা পড়ানো হয়েছে।

তবে বিষয়টিকে ইসলামবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন উখরইল জামে মসজিদের ইমাম মো. আবুল হোসেন। তিনি বলেন, জীবিত ব্যক্তির জানাজা পড়ানোর কোনো বিধান ইসলামে নেই। এটি সম্পূর্ণ ইসলামপরিপন্থী।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ বলেন, ঘটনাটি আগে তার জানা ছিল না। গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জীবিত দম্পতির ‘জানাজা’, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় জীবিত এক দম্পতির জানাজা পড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের উখরইল গ্রামের আব্দুল হাই বাবুর বাড়িতে ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৯ জুন) দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ৩০ জন নারী-পুরুষ সাধু আব্দুল হাই বাবু ও তার স্ত্রী মালেকা বেগমকে জীবিত অবস্থায় বরই পাতার গরম পানিতে গোসল করান। পরে তাদের কাফনের কাপড় পরিয়ে বসিয়ে রেখে সাদা পোশাক পরিহিত সাধুরা জানাজার নামাজ আদায় করেন।

জানাজার পর তাদের হাত ও চোখ সাদা কাপড়ে বেঁধে হাতে লাঠি ও মালা ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রতীকীভাবে অর্থ প্রদান করা হয় এবং কয়েকটি বাড়িতে ভিক্ষাও করানো হয়। পরদিন সেখানে গান-বাজনার আয়োজন করা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাতে বাধা দেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল হাই বাবু কিংবা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অন্য কোনো সাধুকে পাওয়া যায়নি।

আব্দুল হাই বাবুর মেয়ে হালিমা আক্তার জানান, তারা চার ভাই ও এক বোন। বাবা-মা নিজেদের ইচ্ছায় যে জীবনধারা অনুসরণ করছেন, তাতে পরিবারের কোনো আপত্তি নেই।

তিনি দাবি করেন, ইসলামের চার তরিকার একটি ধারার রীতিনীতি অনুযায়ী সংসার জীবন ত্যাগ করে ফকিরি জীবন গ্রহণের অংশ হিসেবেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এতে তারা কোনো অসঙ্গতি দেখছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল আলম, মজিবর রহমানসহ কয়েকজন জানান, আব্দুল হাই বাবু ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ফকিরি ধারার অনুসারী। সংসার ত্যাগের প্রতীকী আনুষ্ঠানিকতা হিসেবেই জীবিত অবস্থায় তাদের জানাজা পড়ানো হয়েছে।

তবে বিষয়টিকে ইসলামবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন উখরইল জামে মসজিদের ইমাম মো. আবুল হোসেন। তিনি বলেন, জীবিত ব্যক্তির জানাজা পড়ানোর কোনো বিধান ইসলামে নেই। এটি সম্পূর্ণ ইসলামপরিপন্থী।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ বলেন, ঘটনাটি আগে তার জানা ছিল না। গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হবে।