শিশু আদিব হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, প্রতিশোধের জেরে খুন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ প্রায় চার মাস তদন্তের পর রাজশাহী মহানগরীর কর্ণহার থানার বহুল আলোচিত শিশু আদিব আহনাফ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
পুলিশের দাবি, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও প্রতিশোধের বশবর্তী হয়ে এক কিশোর পরিকল্পিতভাবে আদিবকে হত্যা করে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ রাতে তারাবির নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু আদিব আহনাফ। পরদিন সকালে কর্ণহার থানার বিলধর্মপুর গ্রামের কৈচাপুকুর এলাকায় তার বাবার ঘাসক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গলায় একটি কোমরের বেল্ট পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কর্ণহার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় ডিবির একটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করে। উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. মনিরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. হাফিজুর রহমান, বিপিএম-সেবা-এর তত্ত্বাবধানে তদন্ত পরিচালনা করেন এসআই (নিঃ) মো. এরশাদ হোসেন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং ধারাবাহিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ২১ জুন অভিযানে হত্যার সঙ্গে জড়িত এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২২ জুন তাকে আদালতে হাজির করা হলে, সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে অভিযুক্ত উল্লেখ করেছে যে, এক কিশোরীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি আদিব জানতে পেরে ওই কিশোরীর মাকে জানিয়ে দেয়। পরে বিষয়টি তার নিজের পরিবার পর্যন্ত পৌঁছালে তাকে মারধরের শিকার হতে হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রমজান মাসে তারাবির নামাজে যাওয়ার সময় আদিবকে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং পরে কোমরের বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। অভিযানের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোমরের বেল্টও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের দাবি, দীর্ঘ তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


















