ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের বিভাগীয় সমাবেশ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক এবং মাস্টার রোলে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে রাজশাহী নগরের নাইস কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতি রাজশাহী বিভাগের উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে রাজশাহী বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দৈনিক মজুরি ও মাস্টার রোলে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী এবং সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মো. মিজানুর রহমান বাদল।
তিনি বলেন, দৈনিক মজুরি ও মাস্টার রোলভিত্তিক কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু বছরের পর বছর কাজ করেও তারা চাকরির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মীদের অন্য ব্যবস্থায় স্থানান্তরের উদ্যোগ তাদের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। তাই কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
রাজশাহী ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়ন-এর সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিয়াউর রহমান।
তিনি বলেন, অনেক কর্মচারী দীর্ঘদিন অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করতে করতে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা অতিক্রম করেছেন। তাই তাদের ক্ষেত্রে বয়স শিথিল করে স্থায়ী নিয়োগ বা আত্তীকরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। নীতিমালার আড়ালে কর্মসংস্থান অনিশ্চিত করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাবেশ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— আউটসোর্সিং ব্যবস্থা বন্ধ, ‘দৈনিক ভিত্তিক সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’ বাতিল এবং কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বয়স শিথিল করে স্থায়ীকরণ বা আত্তীকরণ।
এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি পুনর্নির্ধারণ, বার্ষিক ন্যূনতম ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, শ্রম আইন অনুযায়ী উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা, ওভারটাইম, চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া, শিক্ষা ও ঝুঁকি ভাতা এবং রেশন সুবিধা চালুর দাবি জানানো হয়।
নারী কর্মচারীদের জন্য মেডিকেল সনদের ভিত্তিতে ১৮০ দিনের সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি, সাপ্তাহিক ও বাৎসরিক ছুটির নিশ্চয়তা, যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া চাকরিচ্যুতি বন্ধ এবং পূর্বে চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়। পাশাপাশি ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করে সব কর্মচারীকে শ্রম আইনের পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শিশির, আশিকুর রহমান রাসেল, সাইফুল ইসলাম, তাহেরা আক্তার শান্তি, সাথী আক্তার, রফিকুল ইসলাম রফিক, মনিরুজ্জামান পিয়াস, ময়মনসিংহ বিভাগের আহ্বায়ক আব্দুর রাসেল, সদস্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফৈরদাউস আহমেদ ও সাইদুর রহমান, ঢাকা বিভাগের সদস্য সোহাগ রানা ও সুমন মিয়াসহ অন্যান্য নেতারা।


















