ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামষ্টিক অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনই সরকারের বড় পরীক্ষা: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৮:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা Centre for Policy Dialogue (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে অর্থনীতির অধিকাংশ সূচকই চাপের মধ্যে রয়েছে এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কিছু লক্ষ্যমাত্রার উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক Fahmida Khatun।

তিনি বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় বাড়লেও তা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়।

সিপিডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অথচ অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫ শতাংশ এবং Bangladesh Bureau of Statistics (বিবিএস)-এর হিসাবে তা ৪ শতাংশের কিছু বেশি।

বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা রয়েছে। একসময় যা ২৩ থেকে ২৪ শতাংশের মধ্যে ছিল, বর্তমানে তা কমে ২১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি। সেখানে আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খাদ্য ও জ্বালানি খাতে সরবরাহজনিত সমস্যা এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির কারণে এ লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না বলে মনে করছে সিপিডি।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, কার্যকর বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈদেশিক খাত বিশ্লেষণ করে সিপিডি জানায়, ২০২৭ সালের জন্য রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যকে বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

ডলারের বিনিময় হার ১২৭ টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরে সিপিডি, যা টাকার আরও অবমূল্যায়নের ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করে তারা।

বাজেট কাঠামো বিশ্লেষণ করে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জিডিপির তুলনায় দেশের ঋণের হার বর্তমানে ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ। International Monetary Fund (আইএমএফ)-এর মূল্যায়নে এটি এখনো সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও ঋণ স্থায়িত্বের ঝুঁকি ধীরে ধীরে ‘নিম্ন’ থেকে ‘মাঝারি’ পর্যায়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বাজেট ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত অর্থবছরে যেখানে এ হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ, সেখানে নতুন বাজেটে তা বাড়িয়ে ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে।

সিপিডির মতে, উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এসব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এজন্য বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো Mustafizur Rahman এবং সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট Helen Masiat Priyoti-সহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সামষ্টিক অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনই সরকারের বড় পরীক্ষা: সিপিডি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৮:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা Centre for Policy Dialogue (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে অর্থনীতির অধিকাংশ সূচকই চাপের মধ্যে রয়েছে এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কিছু লক্ষ্যমাত্রার উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক Fahmida Khatun।

তিনি বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় বাড়লেও তা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়।

সিপিডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অথচ অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫ শতাংশ এবং Bangladesh Bureau of Statistics (বিবিএস)-এর হিসাবে তা ৪ শতাংশের কিছু বেশি।

বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা রয়েছে। একসময় যা ২৩ থেকে ২৪ শতাংশের মধ্যে ছিল, বর্তমানে তা কমে ২১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি। সেখানে আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খাদ্য ও জ্বালানি খাতে সরবরাহজনিত সমস্যা এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির কারণে এ লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না বলে মনে করছে সিপিডি।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, কার্যকর বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈদেশিক খাত বিশ্লেষণ করে সিপিডি জানায়, ২০২৭ সালের জন্য রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যকে বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

ডলারের বিনিময় হার ১২৭ টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরে সিপিডি, যা টাকার আরও অবমূল্যায়নের ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করে তারা।

বাজেট কাঠামো বিশ্লেষণ করে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জিডিপির তুলনায় দেশের ঋণের হার বর্তমানে ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ। International Monetary Fund (আইএমএফ)-এর মূল্যায়নে এটি এখনো সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও ঋণ স্থায়িত্বের ঝুঁকি ধীরে ধীরে ‘নিম্ন’ থেকে ‘মাঝারি’ পর্যায়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বাজেট ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত অর্থবছরে যেখানে এ হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ, সেখানে নতুন বাজেটে তা বাড়িয়ে ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে।

সিপিডির মতে, উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এসব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এজন্য বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো Mustafizur Rahman এবং সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট Helen Masiat Priyoti-সহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।