ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃণমূলে ভাঙনের গুঞ্জন, জোরালো হচ্ছে অন্তর্দ্বন্দ্ব

কলকাতা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর সংকটের মুখে পড়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের এক মাসও না পেরোতেই দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য প্রশ্ন তোলার ঘটনায় ভাঙনের জল্পনা তীব্র হয়েছে।

সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবনাপত্রে বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নবনির্বাচিত দুই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকেই দলের একটি অংশ প্রকাশ্যে নেতৃত্বের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক মহলের নজর কাড়ে গত রোববারের একটি বৈঠক। দলনেত্রী Mamata Banerjee নবনির্বাচিত ৮০ জন বিধায়ককে বৈঠকে ডাকলেও উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২০ জন। এই কম উপস্থিতিকে দলীয় অসন্তোষের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari তৃণমূলকে “কার্যত উঠে যাওয়া একটি দল” বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মমতা ব্যানার্জী দাবি করেছেন, তৃণমূলকে ভাঙা সম্ভব নয়।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী জানান, স্বাক্ষর জালিয়াতি বা অসঙ্গতির অভিযোগ প্রথমে বিধানসভার স্পিকারের কাছে উত্থাপন করেছিলেন বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহাই।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলটির একাধিক নেতা, মুখপাত্র ও বিধায়ক প্রকাশ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা শুরু করেছেন। বিশেষ করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

এরই মধ্যে দিল্লি সফরে গিয়ে ঋতব্রত ব্যানার্জীর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দেয়। যদিও ঋতব্রত বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। অন্যদিকে বিজেপিও জানিয়েছে, আপাতত অন্য দল থেকে নেতা নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

তবে বহিষ্কারের পর ঋতব্রত ও সন্দীপনের নেতৃত্বে দলের ভেতরের অসন্তুষ্ট অংশ আরও সক্রিয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন তারা পান, তাহলে বিধানসভায় নতুন নেতৃত্বের প্রশ্নও সামনে আসতে পারে।

বিজেপি নেতা Tapas Roy সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, তৃণমূলের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক ঋতব্রতের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি ঋতব্রত।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিধানসভায় প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দল আমাকে বহিষ্কার করতে পারে, কিন্তু মমতা ব্যানার্জীর প্রতি আমার শ্রদ্ধা একটুও কমেনি। তিনি আমাদের নেত্রী।”

তবে তৃণমূলে আদৌ বড় ধরনের ভাঙন ঘটবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত দলীয় নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং নির্বাচনী পরাজয়ের পর সৃষ্ট অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। আগামী কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহই নির্ধারণ করবে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তৃণমূলে ভাঙনের গুঞ্জন, জোরালো হচ্ছে অন্তর্দ্বন্দ্ব

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর সংকটের মুখে পড়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের এক মাসও না পেরোতেই দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য প্রশ্ন তোলার ঘটনায় ভাঙনের জল্পনা তীব্র হয়েছে।

সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবনাপত্রে বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নবনির্বাচিত দুই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকেই দলের একটি অংশ প্রকাশ্যে নেতৃত্বের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক মহলের নজর কাড়ে গত রোববারের একটি বৈঠক। দলনেত্রী Mamata Banerjee নবনির্বাচিত ৮০ জন বিধায়ককে বৈঠকে ডাকলেও উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২০ জন। এই কম উপস্থিতিকে দলীয় অসন্তোষের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari তৃণমূলকে “কার্যত উঠে যাওয়া একটি দল” বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মমতা ব্যানার্জী দাবি করেছেন, তৃণমূলকে ভাঙা সম্ভব নয়।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী জানান, স্বাক্ষর জালিয়াতি বা অসঙ্গতির অভিযোগ প্রথমে বিধানসভার স্পিকারের কাছে উত্থাপন করেছিলেন বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহাই।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলটির একাধিক নেতা, মুখপাত্র ও বিধায়ক প্রকাশ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা শুরু করেছেন। বিশেষ করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

এরই মধ্যে দিল্লি সফরে গিয়ে ঋতব্রত ব্যানার্জীর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দেয়। যদিও ঋতব্রত বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। অন্যদিকে বিজেপিও জানিয়েছে, আপাতত অন্য দল থেকে নেতা নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

তবে বহিষ্কারের পর ঋতব্রত ও সন্দীপনের নেতৃত্বে দলের ভেতরের অসন্তুষ্ট অংশ আরও সক্রিয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন তারা পান, তাহলে বিধানসভায় নতুন নেতৃত্বের প্রশ্নও সামনে আসতে পারে।

বিজেপি নেতা Tapas Roy সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, তৃণমূলের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক ঋতব্রতের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি ঋতব্রত।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিধানসভায় প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দল আমাকে বহিষ্কার করতে পারে, কিন্তু মমতা ব্যানার্জীর প্রতি আমার শ্রদ্ধা একটুও কমেনি। তিনি আমাদের নেত্রী।”

তবে তৃণমূলে আদৌ বড় ধরনের ভাঙন ঘটবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত দলীয় নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং নির্বাচনী পরাজয়ের পর সৃষ্ট অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। আগামী কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহই নির্ধারণ করবে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান।