ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার সুপারিশ সিডিপির

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর পক্ষে ইতিবাচক মত দিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। কমিটি বাংলাদেশের অনুরোধ বিবেচনা করে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।

সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মাধ্যমে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানো যৌক্তিক হবে বলে কমিটি মনে করে।

তবে সিডিপি স্পষ্ট করেছে, অতিরিক্ত এই সময়কে দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের কাজে ব্যবহার করতে হবে। প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি কোনোভাবেই সংস্কার কার্যক্রম বিলম্বিত করার সুযোগ নয়; বরং এটি সংস্কারকে আরও গতিশীল করার সহায়ক হিসেবে কাজ করা উচিত।

এর আগে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জানায়। পরে ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

সিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি সূচকেই প্রয়োজনীয় মান উল্লেখযোগ্যভাবে অতিক্রম করেছে এবং নিকট ভবিষ্যতে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি কম। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন দেশের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

কমিটি বাংলাদেশের ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রস্তুতিকাল বাড়ানো হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব মূল্যায়ন, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য আরও ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া সহজ শর্তে অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসি-সংশ্লিষ্ট সুবিধা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সিডিপি।

একই সঙ্গে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ, উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়ন, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে কমিটি।

সিডিপির ইতিবাচক মূল্যায়নকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের আশা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশ একটি টেকসই ও সফল এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার সুপারিশ সিডিপির

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর পক্ষে ইতিবাচক মত দিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। কমিটি বাংলাদেশের অনুরোধ বিবেচনা করে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।

সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মাধ্যমে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানো যৌক্তিক হবে বলে কমিটি মনে করে।

তবে সিডিপি স্পষ্ট করেছে, অতিরিক্ত এই সময়কে দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের কাজে ব্যবহার করতে হবে। প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি কোনোভাবেই সংস্কার কার্যক্রম বিলম্বিত করার সুযোগ নয়; বরং এটি সংস্কারকে আরও গতিশীল করার সহায়ক হিসেবে কাজ করা উচিত।

এর আগে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জানায়। পরে ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

সিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি সূচকেই প্রয়োজনীয় মান উল্লেখযোগ্যভাবে অতিক্রম করেছে এবং নিকট ভবিষ্যতে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি কম। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন দেশের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

কমিটি বাংলাদেশের ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রস্তুতিকাল বাড়ানো হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব মূল্যায়ন, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য আরও ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া সহজ শর্তে অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসি-সংশ্লিষ্ট সুবিধা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সিডিপি।

একই সঙ্গে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ, উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়ন, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে কমিটি।

সিডিপির ইতিবাচক মূল্যায়নকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের আশা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশ একটি টেকসই ও সফল এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।