মন্ত্রিসভায় রদবদলের আভাস, আসতে পারে নতুন মুখ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর সরকারের মন্ত্রিসভায় আংশিক পুনর্গঠনের আলোচনা জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শূন্য হওয়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
সোমবার (১ জুন) শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন দীপেন দেওয়ান। পরে তার পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়। এর পর থেকেই মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর করতে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থ, বাণিজ্য, শিক্ষা ও পরিবহনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দায়িত্বের চাপ বেড়ে যাওয়ায় কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব একটি নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার পরিধিও বাড়ানো হতে পারে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। নতুন রদবদলে কয়েকজন উপমন্ত্রী নিয়োগ এবং সংরক্ষিত নারী আসন থেকে একজন সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শেখ রবিউল আলম রবির দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস হতে পারে। পাশাপাশি নতুন মন্ত্রী হিসেবে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুসহ কয়েকজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক। টেকনোক্র্যাট কোটায়ও নতুন মুখ আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, মন্ত্রিসভায় কে থাকবেন বা নতুন দায়িত্ব পাবেন, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে দলীয় চেয়ারম্যান ও সরকারপ্রধানের এখতিয়ার। সময় হলে সরকারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও দলীয় সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় নতুন নিয়োগ ও রদবদলের ঘোষণা আসতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের দ্বিতীয় বছরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনতেই সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় স্থান পান দীপেন দেওয়ান। রাঙ্গামাটি আসন থেকে নির্বাচিত এই নেতা শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন।






















