ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের ছুটিতে সিলেটে পর্যটকের ঢল, মুখর সব দর্শনীয় স্থান

আবুল কাশেম রুমন, সিলেট ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

শুক্রবার (২৯ মে) ঈদের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকেই সাদাপাথরে ভিড় জমাতে শুরু করেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। পাহাড়ঘেরা মনোরম পরিবেশ, স্বচ্ছ নীল জল আর পাথুরে নদীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সময় কাটান দর্শনার্থীরা।

ঘুরতে আসা পর্যটকদের কেউ স্বচ্ছ পানিতে নেমে গরম থেকে স্বস্তি খুঁজেছেন, কেউ ব্যস্ত ছিলেন ছবি তোলা ও সেলফিতে। আবার অনেকে ঘোড়ায় চড়ে কিংবা পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় পুরো এলাকায়।

কুমিল্লা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাদাপাথরে ঘুরতে আসা কলেজছাত্রী অদিতি বলেন, “সাদাপাথর সত্যিই অসাধারণ সুন্দর। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। তবে পর্যটকদের সুবিধার জন্য আরও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন।”

ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ী, নৌকার মাঝি ও ফটোগ্রাফাররা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে পর্যটনকেন্দ্রে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর রয়েছেন। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং সাদা পোশাকের সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

শুধু সাদাপাথর নয়, ঈদের ছুটিতে সিলেট বিভাগের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গল, টাঙ্গুয়ার হাওর, বিভিন্ন চা-বাগান এবং সিলেটের বিভিন্ন বিনোদন পার্কেও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি ঘিরে এমন পর্যটক সমাগম স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করে তুলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঈদের ছুটিতে সিলেটে পর্যটকের ঢল, মুখর সব দর্শনীয় স্থান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

শুক্রবার (২৯ মে) ঈদের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকেই সাদাপাথরে ভিড় জমাতে শুরু করেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। পাহাড়ঘেরা মনোরম পরিবেশ, স্বচ্ছ নীল জল আর পাথুরে নদীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সময় কাটান দর্শনার্থীরা।

ঘুরতে আসা পর্যটকদের কেউ স্বচ্ছ পানিতে নেমে গরম থেকে স্বস্তি খুঁজেছেন, কেউ ব্যস্ত ছিলেন ছবি তোলা ও সেলফিতে। আবার অনেকে ঘোড়ায় চড়ে কিংবা পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় পুরো এলাকায়।

কুমিল্লা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাদাপাথরে ঘুরতে আসা কলেজছাত্রী অদিতি বলেন, “সাদাপাথর সত্যিই অসাধারণ সুন্দর। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। তবে পর্যটকদের সুবিধার জন্য আরও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন।”

ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ী, নৌকার মাঝি ও ফটোগ্রাফাররা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে পর্যটনকেন্দ্রে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর রয়েছেন। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং সাদা পোশাকের সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

শুধু সাদাপাথর নয়, ঈদের ছুটিতে সিলেট বিভাগের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গল, টাঙ্গুয়ার হাওর, বিভিন্ন চা-বাগান এবং সিলেটের বিভিন্ন বিনোদন পার্কেও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি ঘিরে এমন পর্যটক সমাগম স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করে তুলেছে।