ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার বর্জ্য অপসারণে গাফিলতি, দুই সিটির দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক শরণখোলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বিএনপি নেতার মৃত্যু রাজধানীর বর্জ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গাড়ি চালিয়ে ঘুরলেন প্রধানমন্ত্রী চামড়ার বাজারে ধস, ছাগলের চামড়ায় মিলছে না রিকশা ভাড়াও টাঙ্গাইল শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে মাঠে প্রতিমন্ত্রী টুকু মুষলধারে বৃষ্টিতে স্বস্তি, তবু জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি রাজশাহীতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু: দায়ীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ হাজার ছাড়াল

একদিনে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, থামছেই না হামের ভয়াল থাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশজুড়ে হামের আতঙ্ক যেন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত শিশু, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এখন উৎকণ্ঠিত বাবা-মায়ের দীর্ঘ অপেক্ষা, আর ছোট ছোট নিঃশ্বাসের সঙ্গে লড়াই করছে অসংখ্য শিশু।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও এর উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৩ শিশু। মঙ্গলবার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত একদিনে হাম সন্দেহে মারা গেছে ৯ শিশু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে আরও ১ শিশুর। এর আগের দিন সোমবার মারা যায় ১৭ শিশু।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ৫৫৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৮৮ শিশু। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪৬৭ জন।

একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭৭২ শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫২ হাজার ৫৩০ জন।

চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ শিশুই তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে। হাসপাতালগুলোতে বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং অসচেতনতার কারণেই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঈদের আগে যখন ঘরে ঘরে আনন্দের প্রস্তুতি থাকার কথা, তখন অনেক পরিবার কাটাচ্ছে আতঙ্কে। কোনো মা সন্তানের কপালে হাত রেখে রাত জেগে আছেন, কেউ আবার হাসপাতালের বারান্দায় বসে শুধু একটি সুসংবাদের অপেক্ষা করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

একদিনে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, থামছেই না হামের ভয়াল থাবা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

দেশজুড়ে হামের আতঙ্ক যেন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত শিশু, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এখন উৎকণ্ঠিত বাবা-মায়ের দীর্ঘ অপেক্ষা, আর ছোট ছোট নিঃশ্বাসের সঙ্গে লড়াই করছে অসংখ্য শিশু।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও এর উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৩ শিশু। মঙ্গলবার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত একদিনে হাম সন্দেহে মারা গেছে ৯ শিশু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে আরও ১ শিশুর। এর আগের দিন সোমবার মারা যায় ১৭ শিশু।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ৫৫৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৮৮ শিশু। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪৬৭ জন।

একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭৭২ শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫২ হাজার ৫৩০ জন।

চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ শিশুই তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে। হাসপাতালগুলোতে বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং অসচেতনতার কারণেই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঈদের আগে যখন ঘরে ঘরে আনন্দের প্রস্তুতি থাকার কথা, তখন অনেক পরিবার কাটাচ্ছে আতঙ্কে। কোনো মা সন্তানের কপালে হাত রেখে রাত জেগে আছেন, কেউ আবার হাসপাতালের বারান্দায় বসে শুধু একটি সুসংবাদের অপেক্ষা করছেন।