ব্যাংক খাতে ৫৩ কোটি টাকার অদাবিকৃত আমানত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় অঙ্কের অদাবিকৃত বা দাবিহীন আমানতের তথ্য সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৩৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে গ্রাহকদের প্রায় ৫৩ কোটি টাকার মতো অর্থ বছরের পর বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এসব অর্থ স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা মিলিয়ে জমা আছে, যার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রার পরিমাণ প্রায় ৪৯ কোটি টাকা। পাশাপাশি ডলার, পাউন্ড ও ইউরোসহ বৈদেশিক মুদ্রাতেও উল্লেখযোগ্য অঙ্ক রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, গ্রাহকের মৃত্যু, ঠিকানা পরিবর্তন, বিদেশে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া, অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়া বা উত্তরাধিকারীদের তথ্য না থাকার কারণে এসব হিসাব নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। নিয়ম অনুযায়ী টানা ১০ বছর কোনো লেনদেন না থাকলে হিসাবকে ‘অদাবিকৃত আমানত’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রক্রিয়া অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পর এসব অর্থ প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারের নির্ধারিত হিসাবে জমা দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে বৈধ প্রমাণসহ দাবি করলে গ্রাহক বা তাঁর উত্তরাধিকারীরা সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি একটি নিয়মিত ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া, যেখানে অর্থ স্থানান্তরের আগে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় চিঠি, এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে।
হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, দাবিহীন আমানতের তালিকায় কয়েকটি বড় ব্যাংকের নামও রয়েছে। শীর্ষে রয়েছে একটি বিদেশি ব্যাংক, এরপর ব্র্যাক ব্যাংক, এইচএসবিসি, ইস্টার্ন ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকার অদাবিকৃত অর্থ জমা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সচেতনতার অভাব, তথ্য হালনাগাদ না রাখা এবং দীর্ঘদিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করার কারণেই এই বিশাল অঙ্কের অর্থ “হারিয়ে যাওয়া সম্পদ” হিসেবে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় থেকে যাচ্ছে।





















