তনু হত্যা মামলা
ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল আরও ‘এক পুরুষের’ রক্ত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৮:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে Police Bureau of Investigation (পিবিআই)।
রোববার (১৭ মে) রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, আগের ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেলেও এবার নতুন করে আরও একজন পুরুষের রক্তের আলামত শনাক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “আগে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর তথ্য আমাদের কাছে ছিল। এখন নতুন করে আরও একজন পুরুষের আলামত পাওয়ার তথ্য ডিএনএ ল্যাব থেকে আমাদের দেওয়া হয়েছে।”
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ৬ এপ্রিল মামলার তিন সন্দেহভাজন—সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার আবেদন করা হয় আদালতে। আদালতের নির্দেশে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে হাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
Criminal Investigation Department (সিআইডি)-এর ডিএনএ পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিন–এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তনুর পোশাক ও অন্যান্য আলামত থেকে মোট ২৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল।
এর মধ্যে ওড়না, সালোয়ার ও অন্তর্বাসে মানুষের বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া যায় এবং সেখানে তিনজন ভিন্ন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল শনাক্ত হয়। এছাড়া একটি কাপড়ে পাওয়া রক্তের নমুনায় আরেক অজ্ঞাত ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে, যার সঙ্গে আগের তিনজনের কোনো মিল নেই।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন এই ডিএনএ তথ্য মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও মামলাটির তদন্ত তদারকি করা হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “মামলার তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। এখনই সব তথ্য প্রকাশের সময় আসেনি। নতুন রক্তের আলামত পাওয়ায় আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ Cumilla সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবি ও সিআইডি তদন্ত করলেও দীর্ঘ সময়েও রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়নি। ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটির তদন্তভার সিআইডি থেকে পিবিআই সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়।




















