ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে হামে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু, দুই মাসে প্রাণহানি ৪৫১ টাঙ্গাইলকে আধুনিক ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু ফারাক্কার প্রভাবে প্রাণহীন পদ্মা হারানো ঐতিহ্য ‘রাজশাহী সিল্ক’ পুনরুদ্ধারে ব্র্যাককে এগিয়ে আসার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর নবম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশের দাবি সরকারি কর্মচারীদের রতোয়া নদীতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু ঘোড়াঘাটের বাজারে অপরিপক্ক লিচুর ছড়াছড়ি, স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান গোপালপুরে যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামলাকে ঘিরে বিতর্ক পাবনার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ১৭ বছর পর ঢাকায় গ্রেফতার

ইতিহাস সংশোধনের উদ্যোগ

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে থাকা ‘একপেশে ইতিহাস’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে এসব পরিবর্তন কার্যকর করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং একটি যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ চলছে। অতীতে পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস উপস্থাপনায় যে বিচ্যুতি ছিল, তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধে বীরদের অবদান যথাযথভাবে পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের বিস্তারিত ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান।

মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের অংশ হিসেবে গত ৪ থেকে ৭ মে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে চার দিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্তরের বই পরিমার্জনের কাজও চলমান রয়েছে।

এনসিটিবির তথ্যমতে, মাধ্যমিকের ৯৭টি এবং প্রাথমিকের ৩৬টি বই পরিমার্জনে প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষক এবং অভিজ্ঞ স্কুলশিক্ষকরাও রয়েছেন।

চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে পরিমার্জনের কাজ শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীরা পরিমার্জিত ও সংশোধিত পাঠ্যবই হাতে পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও পড়াশোনাকে আনন্দময় করতে নতুন কিছু বইও যুক্ত করা হবে।

এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন বই প্রণয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া কারিগরি ও আইসিটি শিক্ষায়ও বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা জানান তিনি।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে এবং পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা কমিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলামে আরও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইতিহাস সংশোধনের উদ্যোগ

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে থাকা ‘একপেশে ইতিহাস’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে এসব পরিবর্তন কার্যকর করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং একটি যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ চলছে। অতীতে পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস উপস্থাপনায় যে বিচ্যুতি ছিল, তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধে বীরদের অবদান যথাযথভাবে পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের বিস্তারিত ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান।

মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের অংশ হিসেবে গত ৪ থেকে ৭ মে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে চার দিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্তরের বই পরিমার্জনের কাজও চলমান রয়েছে।

এনসিটিবির তথ্যমতে, মাধ্যমিকের ৯৭টি এবং প্রাথমিকের ৩৬টি বই পরিমার্জনে প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষক এবং অভিজ্ঞ স্কুলশিক্ষকরাও রয়েছেন।

চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে পরিমার্জনের কাজ শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীরা পরিমার্জিত ও সংশোধিত পাঠ্যবই হাতে পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও পড়াশোনাকে আনন্দময় করতে নতুন কিছু বইও যুক্ত করা হবে।

এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন বই প্রণয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া কারিগরি ও আইসিটি শিক্ষায়ও বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা জানান তিনি।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে এবং পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা কমিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলামে আরও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।