গ্যাস বিস্ফোরণে নিভে গেল পুরো পরিবার, শেষমেশ মারা গেলেন সালমাও
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজ থেকে হওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচজনের কেউই শেষ পর্যন্ত বাঁচলেন না। স্বামী ও তিন সন্তানের মৃত্যুর পর এবার না ফেরার দেশে চলে গেলেন গৃহবধূ সালমা আক্তার (৩০)।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ৯টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মর্মান্তিক এই ঘটনায় একটি পুরো পরিবারই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।
এর আগে গত সোমবার মারা যান সালমার স্বামী আবুল কালাম (৩৫)। এরপর বুধবার মৃত্যু হয় তাদের চার বছরের মেয়ে কথার। বৃহস্পতিবার মারা যায় ছেলে মুন্না (১২) ও মেয়ে মুন্নি (৭)। কয়েক দিনের ব্যবধানে একে একে নিভে যায় পরিবারের পাঁচটি প্রাণ।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সালমার শ্বাসনালিসহ শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে রাখা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
গত রোববার সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় গ্রাম বাংলা টাওয়ারসংলগ্ন একটি বাসায় ঘটে বিস্ফোরণের ঘটনা। প্রতিবেশীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দের পর ঘরজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের পাঁচ সদস্যকে উদ্ধার করে ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।
পরিবারের স্বজনদের ভাষ্য, সেদিন সকালে সবজির আড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আবুল কালাম। রান্নাঘরে তরকারি গরম করতে দেশলাই জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ থেকেই এই দুর্ঘটনা।
স্বপ্ন, সংগ্রাম আর ছোট ছোট সুখে গড়া একটি পরিবার কয়েক মুহূর্তের আগুনে এভাবে শেষ হয়ে যাবে—তা কেউ কল্পনাও করেনি। এখন ফতুল্লার সেই ঘরটিতে শুধু পোড়া গন্ধ আর নিঃশব্দ শোক পড়ে আছে।






















