ঘোড়াঘাটের বাজারে অপরিপক্ক লিচুর ছড়াছড়ি, স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় লিচুর মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই বাজারে অপরিপক্ক ও কাঁচা লিচু বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বেশি লাভের আশায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও বাগান মালিক অপরিপক্ক লিচু বাজারজাত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
উপজেলার পৌরবাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে উঠেছে কাঁচা ও অপুষ্ট লিচু। ৫০টি করে আঁটি বাঁধা এসব লিচু বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়।
আকারে ছোট, স্বাদে টক ও কষযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এসব লিচু। অভিযোগ রয়েছে, অপরিপক্ক লিচুকে আকর্ষণীয় দেখাতে রাসায়নিক ব্যবহার করে রং করা হচ্ছে।
ক্রেতাদের দাবি, এসব লিচু খাওয়ার উপযোগী নয়। একজন ক্রেতা জানান, “লিচুগুলো এতটাই টক ও কষযুক্ত যে মুখে রাখা যাচ্ছিল না, ফেলে দিতে হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিক লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা অপরিপক্ক লিচু সংগ্রহ করে তাতে রাসায়নিক মিশিয়ে দ্রুত পাকানো ও রঙিন করে বাজারে বিক্রি করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুজ্জামান জানান, বোম্বাই ও মাদ্রাজি জাতের লিচুর মৌসুম শুরু হবে মে মাসের শেষ দিকে। আর বেদেনা ও চায়না-৩ জাতের লিচু বাজারে আসবে জুন মাসে। এর আগে বাজারে যে লিচু দেখা যাচ্ছে, সেগুলো মূলত অপরিপক্ক এবং রাসায়নিক দিয়ে পাকানো।
স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সোলাইম হাসান মেহেদি বলেন, রাসায়নিক মিশ্রিত এসব লিচু খেলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি পেটের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে সচেতন নাগরিকরা বাজারে অপরিপক্ক ও রাসায়নিকযুক্ত লিচু বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




















