সবজির দাম চড়াই, ডিমেও ঊর্ধ্বগতি; মুরগি ও চালের বাজারে স্বস্তি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর বাজারে আবারও চড়া হয়েছে সবজির দাম। বেশিরভাগ সবজি এখন উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। একইসঙ্গে ডিমের দামও বেড়েছে, ফলে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে মুরগি ও চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাচ্চু মিয়া ছুটির দিনে বড় বাজারের তালিকা নিয়ে বের হলেও বাজারে গিয়ে পড়েন দামের চাপে। তিনি বলেন, “যেটুকু কিনতে এসেছিলাম, তার অর্ধেকও কেনা সম্ভব হয়নি। প্রতিদিনই দাম বাড়ছে, আমরা কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।”
তবে শুধু তিনিই নন, সবজি ও নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি অনেক ক্রেতাকেই বিপাকে ফেলেছে।
কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, টমেটো কেজিতে প্রায় ২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০ টাকা, পেঁয়াজ ১০ টাকা এবং আদার দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে বাজারে পেঁপে কেজি ১০০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরবটি ৮০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, আদা ২১০ থেকে ২২০ টাকা এবং বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং বৃষ্টি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। লাল ডিমের দাম ডজনে প্রায় ১৫ টাকা বেড়ে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিম বিক্রেতা আশরাফ বলেন, “পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরাতেও দাম বেড়েছে।”
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে লাগাতার ঊর্ধ্বগতিতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। এক ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় যে বাজার হতো, এখন ১ হাজার ৫০০ টাকায়ও তা হয় না।”
তবে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহ ব্যবধানে সোনালি ও ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমেছে। বর্তমানে সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, ব্রয়লার ১৭০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমেছে এবং এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
এদিকে চালের বাজারেও স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। নতুন মৌসুমি চাল বাজারে আসায় ব্রি ২৮ ও পাইজাম চালের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা করে কমেছে। বর্তমানে ব্রি ২৮ চাল ৫৫ টাকা এবং পাইজাম ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন চাল বাজারে আসায় সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার কারণে দাম কিছুটা কমেছে।






















