রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর
পা হারানো রেবেকার বেঁচে থাকা, নিখোঁজ শাবানার অপেক্ষায় পরিবার
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
আজ ২৪ এপ্রিল, সাভারের রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৩ সালের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বকেও নাড়িয়ে দিয়েছিল। এত বছর পরও সেই ট্র্যাজেডির ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন বেঁচে যাওয়া ও স্বজনহারানো অসংখ্য মানুষ।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর গার্মেন্টস শ্রমিক রেবেকা বেগম (৩১) এখনো সেই দিনের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন দুই পা হারানোর যন্ত্রণায়। তিনি বলেন, “দুই পা হারানোর কষ্ট নিয়েই বেঁচে আছি, যতদিন বাঁচবো ততদিন এই যন্ত্রণা থাকবে।” দুর্ঘটনার পর থেকে কর্মহীন হয়ে পড়া রেবেকার দিন কাটে ঘরেই। সন্তানদের নিয়ে বাইরে যাওয়া বা তাদের প্রয়োজন মেটানো—সবই এখন তার জন্য কঠিন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে ফাটল ধরা ভবনে কাজে যেতে না চাইলেও চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের কাজে ঢোকানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে ধসে পড়ে ভবনটি। ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন আটকে থাকার পর উদ্ধার হন রেবেকা। জ্ঞান ফেরার পর জানতে পারেন, তার দুই পা ঊরু পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরলেও স্বাভাবিক জীবনে আর ফেরা হয়নি তার।
রেবেকা জানান, ওই দুর্ঘটনায় তিনি মা, দাদি ও ফুফুসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হারিয়েছেন। “অনেক খুঁজেও তাদের মরদেহ পাইনি,”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন তিনি। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও ভুল তথ্যে তিনি পেয়েছেন ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, যার লভ্যাংশ দিয়ে কোনোভাবে সংসার চলছে।
অন্যদিকে একই উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের গুলশানে জান্নাত শাবানা আজও নিখোঁজ। তার স্বামী আতাউর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার ১৩ বছর পরও স্ত্রীর কোনো খোঁজ মেলেনি, এমনকি মরদেহও পাওয়া যায়নি। ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাকা পেলেও স্ত্রীর অনুপস্থিতির শূন্যতা পূরণ হয়নি।
দুই সন্তানকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করলেও শাবানার স্মৃতি এখনো তাড়া করে আতাউরকে। ছেলে সাজ্জাদ আহম্মেদ সজিব এখন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, আর মেয়ে সোহানা আফরিন সানু এসএসসি দিচ্ছে। সানু বলেন, “মায়ের মুখটাই মনে নেই। অন্যদের মাকে দেখে মনে হয়, মা থাকলে কত আদর করতেন।”
১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও রানা প্লাজা ধস-এর ক্ষত এখনো শুকায়নি। বেঁচে থাকা মানুষদের সংগ্রাম আর স্বজনহারানো পরিবারের অপেক্ষা মনে করিয়ে দেয়—এই ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এক দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বেদনার নাম।





















