বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে হামের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতীয় পর্যায়ে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে। বিপুলসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া, টিকাদানের ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাগুলো এই ঝুঁকির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংস্থার তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৯০০-এর বেশি। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে। ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি। আক্রান্তদের বড় অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, যাদের অনেকেই টিকা পায়নি বা আংশিক টিকা পেয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় হামকে জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে ঘোষণা করে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের ঘাটতি এবং নিয়মিত হাম-রুবেলা কর্মসূচির অভাবের কারণে রোগ প্রতিরোধক্ষমতায় দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে তীব্র করেছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাস ও ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে সারা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর প্রধান লক্ষণ। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টিকাদানের কভারেজ ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা, নজরদারি জোরদার, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সীমান্ত এলাকায় বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—বিশেষ করে শিশু, স্বাস্থ্যকর্মী ও ভ্রমণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে সংস্থাটি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, ভিটামিন ‘এ’ সরবরাহ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল সক্রিয়সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।





















