রানা প্লাজা ট্রাজেডি
রানা প্লাজার বিচার কবে? ১৩ বছরেও শেষ হয়নি মামলা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩২:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল—একটি সকাল, যা আজও বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিনগুলোর একটি হয়ে আছে। সাভারের সেই বহুতল ভবন, রানা প্লাজা, মুহূর্তেই ধসে পড়ে কেড়ে নেয় ১ হাজার ১৩৬টি প্রাণ। হাজারো পরিবারে নেমে আসে শোক, অসংখ্য মানুষ হারান প্রিয়জন, জীবনের ভরসা।
১৩ বছর পেরিয়ে গেছে। পোশাক খাতে নিরাপত্তা, কারখানা কাঠামো, শ্রমিক সুরক্ষায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সেই দিনের বিচার এখনো যেন আটকে আছে সময়ের গহ্বরে।
এই ঘটনায় চারটি মামলা হলেও, নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র একটি ছোট মামলা—ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ভঙ্গের অভিযোগে। অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হত্যা মামলাসহ বাকি তিনটি মামলা এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঝুলে আছে।
হত্যা মামলায় ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে মাত্র ১৪৫ জনের। অর্থাৎ অধিকাংশ সাক্ষ্যই এখনো বাকি। ফলে বিচার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে ধীরগতিতে, আর অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য।
এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ছাড়া অধিকাংশ আসামি কেউ পলাতক, কেউ জামিনে—এটিও বিচার বিলম্বের একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, অতীতে যথেষ্ট গুরুত্ব না পাওয়ায় বিচারকাজে গতি আসেনি। অন্যদিকে আসামিপক্ষও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার পক্ষে মত দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—বছরের পর বছর কেটে গেলেও সেই প্রত্যাশিত সমাপ্তি এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
আইনজীবীদের মতে, বর্তমান গতিতে এগোলে চলতি বছরেও রায় হওয়ার সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ আরও সময়, আরও অপেক্ষা।
কিন্তু এই অপেক্ষা শুধু আইনি প্রক্রিয়ার নয়—এটা ন্যায়বিচারের অপেক্ষা। যে পরিবারগুলো আজও প্রিয়জন হারানোর শোক বয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের জন্য প্রতিটি বিলম্ব যেন নতুন করে পুরোনো ক্ষতকে জাগিয়ে তোলে।
রানা প্লাজা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা ছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তার পূর্ণ বিচার এখনো না হওয়ায় প্রশ্নটা থেকেই যায়—এত বড় এক ট্র্যাজেডির বিচার পেতে আর কত সময় লাগবে?





















