খেটে খাওয়া মানুষ কষ্টে থাকবে, শহর স্বাচ্ছন্দ্যে—এটা গ্রহণযোগ্য নয়
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য প্রদানকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। তাই শহর ও গ্রামের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ কষ্টে থাকবেন আর শহরের মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবেন—এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে আলোচনা করে রাজধানী ঢাকায় প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের ইতিহাসে এ ধরনের উদ্যোগ প্রথমবারের মতো গ্রহণ করা হয়েছে। জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল বিস্তারিত আলোচনা করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তাদের পরামর্শও গ্রহণ করা হয়েছে। তার মতে, এই আলোচনার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো দেশ পরিচালনায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরি হওয়া।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী সরকারের কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে বর্তমান সরকারের বক্তব্য গ্রহণে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সরকার শপথের মর্যাদা রক্ষা এবং সংসদের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রতিটি বক্তব্যে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনে ভোগান্তি তৈরি করেছে, তবে এর পেছনে পূর্বের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে। বর্তমান সরকারের একক দায়ে এই সংকট সৃষ্টি হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট, যার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৪,৯২৬.৩৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২,০৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা কাগজে যতটা দেখানো হয়, বাস্তবে তার সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে। দুটি আমদানিকৃত বিদ্যুৎ কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে সেগুলো পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে লোডশেডিং পরিস্থিতি উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, দেশে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে উৎপাদন হয় ১,৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি হয় প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১,১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট।
তিনি বলেন, অর্থ ও সক্ষমতা থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে আমদানি বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। তবে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সবশেষে তিনি জনগণের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের লক্ষ্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনগণের কষ্ট লাঘব করা।





















