ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনায় উদ্বেগ বাড়ছে, টিকার মজুতও কম

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫ ৮৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চিনে মিলল করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট। এইচকেইউ৫-কোভ-২ নামে নয়া প্রজাতির মিউটেশন একটু এদিক-ওদিক হলেই ফের ভয়াবহ হয়ে উঠবে ভাইরাসটি! যার জেরে আবার শুরু হতে পারে অতিমারী। হু হু করে ছড়াবে সংক্রমণ। মৃত্যু হতে পারে লাখ লাখ মানুষের। হতে পারে লকডাউনও! এমনই জানিয়ে সতর্ক করেছেন চিনের বিজ্ঞানীরা।

পাঁচ বছর আগে কোভিড ১৯-এর দাপটে সংক্রমণ-মৃত্যু-লকডাউনের সাক্ষী হয়েছে পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কিছু দেশে নতুন করে করোনা ছড়াচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারতে সংক্রমিতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে।

এদিকে, দেশেও বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এমন অবস্থায় রয়েছে কিট সংকট। রাজধানীর তিনটি সরকারি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে করোনা পরীক্ষার কিট পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সূত্রে জানা যায়, এখন তাদের হাতে ৩১ লাখ টিকা মজুত রয়েছে। এরমধ্যে ১৭ লাখের মেয়াদ আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। করোনার টিকা আবার নতুন করে শুরু করার বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারণী স্তরে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা প্রতিরোধ-সংক্রান্ত তৎপরতা নেই বললেই চলে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে করোনার তথ্য সংগ্রহ-সংক্রান্ত কাজও ঢিমেতালে চলছে। এ পরিস্থিতিতে করোনার নতুন ধরন শনাক্ত হয়েছে। ভারতেও নতুন একটি ধরনের সংক্রমণ বাড়ছে।

দেশে গত শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার (৮ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত তিনজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। চলতি মাসে ২২ জনের আক্রান্ত হয়েছে। আর পুরো মে মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল অর্ধশত।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন একজন। কিন্তু মে মাসের শেষ সপ্তাহে এতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫-এ।

আইসিডিডিআরবির গবেষকেরা করোনার নতুন একটি ধরন শনাক্তের কথা বলছেন। এর নাম এক্সএফজি। এর পাশাপাশি এক্সএফসি ধরনটিও পাওয়া গেছে। দুটোই করোনার শক্তিশালী ধরন অমিক্রনের জেএন-১ ভ্যারিয়েন্টের উপধরন।

আইসিডিডিআরবির হেড অব ভাইরোলজি ল্যাবরেটরি মোস্তাফিজুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নতুন এ ধরন নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভাইরাসের ধরন পরিবর্তন হয় দ্রুত। তবে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত ২৩ মে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এনবি.১.৮.১ ধরন এখন ক্রমেই ছড়াচ্ছে। এর সংক্রমণের হারও বেশি। তবে করোনার আগের ধরনগুলোর চেয়ে এই ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি নয়।

ভারতে ছড়িয়ে পড়া এই ধরন বাংলাদেশে যে আসবে না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং ঝুঁকি আছে যথেষ্ট, এমনটাই মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল। তার কথা, এ জন্য করোনা প্রতিরোধে প্রস্তুতি দরকার। কিন্তু এখনো এ নিয়ে তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরী নির্দেশনা

হঠাৎ বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে সংক্রমণ এড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে চট্রগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে রয়েছে হেলথ স্ক্রিনিং ইকুইপমেন্ট, থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে আগত যাত্রীদের তাপমাত্রা নির্ণয়, স্পর্শকাতর পয়েন্টসমূহে মাস্ক ব্যবহারে জরুরি নির্দেশনাসহ কয়েকটি ব্যবস্থা।

রোববার (৮ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে এই সংক্রমণ এড়াতে চট্রগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

করোনা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি সতর্কবার্তা

দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় মাস্ক ব্যবহারে সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ভিড়যুক্ত স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৬ জুন) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশিদের পাঠানো এক বার্তায় এই অনুরোধ জানানো হয়।

তাতে বলা হয়, কোভিড-১৯ সংক্রমণ হারের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সবাইকে মাস্ক পরার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। বিশেষত বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের এ ধরনের স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এ ধরনের সতর্কতা সময়োপযোগী। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার ও ভিড় এড়িয়ে চলার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে ধরা পড়ছে কোভিড -১৯। জনগণের প্রতি সরকারের এই আহ্বানকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

কিট সংকট, টিকা অপর্যাপ্ত

করোনার সংক্রমণ রোধে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কিটের মজুতের কথা বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বড় এই তিন হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার কোনো কিট নেই।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখনো রোগী আসছে না। কিন্তু রোগী এলেও পরীক্ষার তো ব্যবস্থা নেই। হয়তো এটা জেনেই এখানে কেউ আসে না।

করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকার মুখে গত ২২ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক সভায় উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে করোনার টিকা দেওয়ার কথা বলে। সেই চিঠি সরকারের নানা পর্যায়ে পাঠানো হয়।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ এফ এম শাহাবুদ্দিন খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাদের হাতে এখন ৩১ লাখ ফাইজারের তৈরি করোনার টিকা আছে। এর মধ্যে গত দুই মাসে ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৯০০ ডোজ ফাইজারের টিকা সব জেলায় পাঠানো হয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হবে ৬ আগস্ট। এখন হাতে আছে আসলে ১৪ লাখ টিকা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু জাফর করোনার কিটের অপর্যাপ্ততার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কিটের সংকট আছে। সেগুলো মেটানোর চেষ্টা আমরা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

করোনায় উদ্বেগ বাড়ছে, টিকার মজুতও কম

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫

চিনে মিলল করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট। এইচকেইউ৫-কোভ-২ নামে নয়া প্রজাতির মিউটেশন একটু এদিক-ওদিক হলেই ফের ভয়াবহ হয়ে উঠবে ভাইরাসটি! যার জেরে আবার শুরু হতে পারে অতিমারী। হু হু করে ছড়াবে সংক্রমণ। মৃত্যু হতে পারে লাখ লাখ মানুষের। হতে পারে লকডাউনও! এমনই জানিয়ে সতর্ক করেছেন চিনের বিজ্ঞানীরা।

পাঁচ বছর আগে কোভিড ১৯-এর দাপটে সংক্রমণ-মৃত্যু-লকডাউনের সাক্ষী হয়েছে পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কিছু দেশে নতুন করে করোনা ছড়াচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারতে সংক্রমিতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে।

এদিকে, দেশেও বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এমন অবস্থায় রয়েছে কিট সংকট। রাজধানীর তিনটি সরকারি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে করোনা পরীক্ষার কিট পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সূত্রে জানা যায়, এখন তাদের হাতে ৩১ লাখ টিকা মজুত রয়েছে। এরমধ্যে ১৭ লাখের মেয়াদ আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। করোনার টিকা আবার নতুন করে শুরু করার বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারণী স্তরে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা প্রতিরোধ-সংক্রান্ত তৎপরতা নেই বললেই চলে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে করোনার তথ্য সংগ্রহ-সংক্রান্ত কাজও ঢিমেতালে চলছে। এ পরিস্থিতিতে করোনার নতুন ধরন শনাক্ত হয়েছে। ভারতেও নতুন একটি ধরনের সংক্রমণ বাড়ছে।

দেশে গত শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার (৮ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত তিনজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। চলতি মাসে ২২ জনের আক্রান্ত হয়েছে। আর পুরো মে মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল অর্ধশত।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন একজন। কিন্তু মে মাসের শেষ সপ্তাহে এতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫-এ।

আইসিডিডিআরবির গবেষকেরা করোনার নতুন একটি ধরন শনাক্তের কথা বলছেন। এর নাম এক্সএফজি। এর পাশাপাশি এক্সএফসি ধরনটিও পাওয়া গেছে। দুটোই করোনার শক্তিশালী ধরন অমিক্রনের জেএন-১ ভ্যারিয়েন্টের উপধরন।

আইসিডিডিআরবির হেড অব ভাইরোলজি ল্যাবরেটরি মোস্তাফিজুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নতুন এ ধরন নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভাইরাসের ধরন পরিবর্তন হয় দ্রুত। তবে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত ২৩ মে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এনবি.১.৮.১ ধরন এখন ক্রমেই ছড়াচ্ছে। এর সংক্রমণের হারও বেশি। তবে করোনার আগের ধরনগুলোর চেয়ে এই ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি নয়।

ভারতে ছড়িয়ে পড়া এই ধরন বাংলাদেশে যে আসবে না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং ঝুঁকি আছে যথেষ্ট, এমনটাই মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল। তার কথা, এ জন্য করোনা প্রতিরোধে প্রস্তুতি দরকার। কিন্তু এখনো এ নিয়ে তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরী নির্দেশনা

হঠাৎ বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে সংক্রমণ এড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে চট্রগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে রয়েছে হেলথ স্ক্রিনিং ইকুইপমেন্ট, থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে আগত যাত্রীদের তাপমাত্রা নির্ণয়, স্পর্শকাতর পয়েন্টসমূহে মাস্ক ব্যবহারে জরুরি নির্দেশনাসহ কয়েকটি ব্যবস্থা।

রোববার (৮ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে এই সংক্রমণ এড়াতে চট্রগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

করোনা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি সতর্কবার্তা

দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় মাস্ক ব্যবহারে সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ভিড়যুক্ত স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৬ জুন) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশিদের পাঠানো এক বার্তায় এই অনুরোধ জানানো হয়।

তাতে বলা হয়, কোভিড-১৯ সংক্রমণ হারের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সবাইকে মাস্ক পরার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। বিশেষত বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের এ ধরনের স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এ ধরনের সতর্কতা সময়োপযোগী। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার ও ভিড় এড়িয়ে চলার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে ধরা পড়ছে কোভিড -১৯। জনগণের প্রতি সরকারের এই আহ্বানকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

কিট সংকট, টিকা অপর্যাপ্ত

করোনার সংক্রমণ রোধে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কিটের মজুতের কথা বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বড় এই তিন হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার কোনো কিট নেই।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখনো রোগী আসছে না। কিন্তু রোগী এলেও পরীক্ষার তো ব্যবস্থা নেই। হয়তো এটা জেনেই এখানে কেউ আসে না।

করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকার মুখে গত ২২ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক সভায় উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে করোনার টিকা দেওয়ার কথা বলে। সেই চিঠি সরকারের নানা পর্যায়ে পাঠানো হয়।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ এফ এম শাহাবুদ্দিন খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাদের হাতে এখন ৩১ লাখ ফাইজারের তৈরি করোনার টিকা আছে। এর মধ্যে গত দুই মাসে ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৯০০ ডোজ ফাইজারের টিকা সব জেলায় পাঠানো হয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হবে ৬ আগস্ট। এখন হাতে আছে আসলে ১৪ লাখ টিকা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু জাফর করোনার কিটের অপর্যাপ্ততার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কিটের সংকট আছে। সেগুলো মেটানোর চেষ্টা আমরা করছি।