ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা

সম্পাদকীয়
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫ ২০৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ পহেলা বৈশাখ। ১৪৩২ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। বাঙালির প্রাণের পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের মূল বৈশিষ্ট্য হলো- পৃথিবীর অন্যান্য বর্ষপঞ্জি যেখানে কোনো না কোনো ধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলা নববর্ষ সেদিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কৃষিকাজ ও খাজনা সংগ্রহের নিমিত্তে এর প্রচলন এবং দিনে দিনে তা হয়ে ওঠে সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব।

পুরোনোকে পেছনে ফেলে এসেছে নতুন দিন। সেই নতুনকে লোকাচার, অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল আলোয় বরণ করে নেবে বাঙালি।

এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ একটি আশাব্যঞ্জক নতুন ধারায় বিনির্মাণ হবে। আমাদের বর্ষবরণের রীতিনীতি বদলে গিয়ে জাতীয় মূল চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে এ প্রত্যাশা দেশবাসীর। তারপরও রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীদের আসর জমবে। আয়োজন করা হবে আনন্দ শোভাযাত্রার। বাঙালি তার মনের রংটুকু ধরে রাখবে। হতাশায় না ডুবে সবাই মিলে একসঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন দেখবে। সুন্দর আরও বর্ণাঢ্যে নববর্ষ উদযাপন করবে বাঙালি। আমাদের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষি, ব্যবসা, পার্বণসহ পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বাংলা সনের ব্যবহার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বাঙালির জীবনে বাংলা নববর্ষের আবেদন তাই চিরন্তন ও সর্বজনীন। বাংলা নববর্ষ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জনগোষ্ঠী বর্ষবরণ উৎসবকে ঐতিহ্যগতভাবে ধারণ করে থাকে।

বাঙালির এই অসাম্প্রদায়িক উৎসব জাতীয় ইতিহাসেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়ার এই যে উৎসব, তা আজ বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। নানা আয়োজনে দেশজুড়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়।

নববর্ষে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে দোকানে দোকানে হালখাতা খোলার রীতি আজও প্রচলিত। বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ধরনের প্রাণসঞ্চার হয় প্রতি বছর। হস্তশিল্পের প্রসারে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। শহরাঞ্চলে বুটিক ও ফ্যাশন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ার খবরও উৎসাহব্যঞ্জক। এসব কর্মকা- আমাদের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে যুক্ত করছে নতুন মাত্রা।

বাঙালির জীবনে বৈশাখ একটি অনন্য বার্তা নিয়ে আসে। আমরা প্রত্যাশা করি, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ প্রত্যেক বাঙালির জীবনে সজীবতা বয়ে আনবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলি, ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা’। পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসুক। সবার জন্য মঙ্গলময় হোক নতুন বছর। বাংলা টাইমস-এর সাংবাদিক, পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ীদের জানাই- শুভ নববর্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫

আজ পহেলা বৈশাখ। ১৪৩২ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। বাঙালির প্রাণের পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের মূল বৈশিষ্ট্য হলো- পৃথিবীর অন্যান্য বর্ষপঞ্জি যেখানে কোনো না কোনো ধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলা নববর্ষ সেদিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কৃষিকাজ ও খাজনা সংগ্রহের নিমিত্তে এর প্রচলন এবং দিনে দিনে তা হয়ে ওঠে সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব।

পুরোনোকে পেছনে ফেলে এসেছে নতুন দিন। সেই নতুনকে লোকাচার, অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল আলোয় বরণ করে নেবে বাঙালি।

এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ একটি আশাব্যঞ্জক নতুন ধারায় বিনির্মাণ হবে। আমাদের বর্ষবরণের রীতিনীতি বদলে গিয়ে জাতীয় মূল চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে এ প্রত্যাশা দেশবাসীর। তারপরও রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীদের আসর জমবে। আয়োজন করা হবে আনন্দ শোভাযাত্রার। বাঙালি তার মনের রংটুকু ধরে রাখবে। হতাশায় না ডুবে সবাই মিলে একসঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন দেখবে। সুন্দর আরও বর্ণাঢ্যে নববর্ষ উদযাপন করবে বাঙালি। আমাদের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষি, ব্যবসা, পার্বণসহ পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বাংলা সনের ব্যবহার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বাঙালির জীবনে বাংলা নববর্ষের আবেদন তাই চিরন্তন ও সর্বজনীন। বাংলা নববর্ষ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জনগোষ্ঠী বর্ষবরণ উৎসবকে ঐতিহ্যগতভাবে ধারণ করে থাকে।

বাঙালির এই অসাম্প্রদায়িক উৎসব জাতীয় ইতিহাসেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়ার এই যে উৎসব, তা আজ বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। নানা আয়োজনে দেশজুড়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়।

নববর্ষে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে দোকানে দোকানে হালখাতা খোলার রীতি আজও প্রচলিত। বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ধরনের প্রাণসঞ্চার হয় প্রতি বছর। হস্তশিল্পের প্রসারে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। শহরাঞ্চলে বুটিক ও ফ্যাশন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ার খবরও উৎসাহব্যঞ্জক। এসব কর্মকা- আমাদের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে যুক্ত করছে নতুন মাত্রা।

বাঙালির জীবনে বৈশাখ একটি অনন্য বার্তা নিয়ে আসে। আমরা প্রত্যাশা করি, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ প্রত্যেক বাঙালির জীবনে সজীবতা বয়ে আনবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলি, ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা’। পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসুক। সবার জন্য মঙ্গলময় হোক নতুন বছর। বাংলা টাইমস-এর সাংবাদিক, পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ীদের জানাই- শুভ নববর্ষ।