ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল কলম্বিয়া, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু মানুষ মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব কে? আলোচনায় রিজভী ব্যাংক খাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন’ অনুমোদন দেশে প্রথমবার নৌযান শুমারি, ২০ আগস্ট থেকে ১০ দিন চলবে কার্যক্রম প্রথমবার নৌযান শুমারি, তালিকায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮০৮ নৌযান Allegations of Widespread Irregularities and Corruption Against Transrail Lighting in Rooppur Power Transmission Project ট্রান্সরেইল লাইটিং ও অমৃক সিংয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, দুদকে নালিশ একাদশ শ্রেণিতে আসন খালি থাকবে সাড়ে ১৩ লাখের বেশি আপা যে পথে হেঁটেছেন, আপনারাও সেই পথে হাঁটছেন: জামায়াত আমির ফ্যাসিবাদী শাসনে ভঙ্গুর বাংলাদেশ পুনর্গঠনের সময় এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব কে? আলোচনায় রিজভী

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে আরেকটি প্রশ্ন—মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন?

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম। দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগকে এ আলোচনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন নেতারা।

রুহুল কবির রিজভী ছাত্ররাজনীতি থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে উঠে এসেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে দলের কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তিনি। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকায় মহাসচিব পদে দায়িত্ব পেলে রিজভী সংগঠনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নতুন নেতৃত্বে সাংগঠনিক সমন্বয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

দুঃসময়ে দলের সামনের সারিতে

বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ওয়ান-ইলেভেনের সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে রুহুল কবির রিজভী দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণের মুখোমুখি হয়েছেন।

দলটির নেতাদের দাবি, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁর বিরুদ্ধে বহু মামলা হয়েছে এবং তিনি দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, রিজভীর অন্যতম শক্তি হলো তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ রক্ষায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে মহাসচিবের দায়িত্ব পেলে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় আরও জোরদার হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘রুহুল কবির রিজভীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর গ্রহণযোগ্যতা। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তিনি দায়িত্ব পেলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হতে পারে।’

তবে বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হচ্ছেন কি না এবং হলে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তাঁর উত্তরসূরি কে হচ্ছেন—দুই প্রশ্নের উত্তরই এখন নির্ভর করছে দলটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব কে? আলোচনায় রিজভী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে আরেকটি প্রশ্ন—মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন?

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম। দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগকে এ আলোচনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন নেতারা।

রুহুল কবির রিজভী ছাত্ররাজনীতি থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে উঠে এসেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে দলের কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তিনি। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকায় মহাসচিব পদে দায়িত্ব পেলে রিজভী সংগঠনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নতুন নেতৃত্বে সাংগঠনিক সমন্বয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

দুঃসময়ে দলের সামনের সারিতে

বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ওয়ান-ইলেভেনের সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে রুহুল কবির রিজভী দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণের মুখোমুখি হয়েছেন।

দলটির নেতাদের দাবি, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁর বিরুদ্ধে বহু মামলা হয়েছে এবং তিনি দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, রিজভীর অন্যতম শক্তি হলো তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ রক্ষায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে মহাসচিবের দায়িত্ব পেলে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় আরও জোরদার হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘রুহুল কবির রিজভীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর গ্রহণযোগ্যতা। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তিনি দায়িত্ব পেলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হতে পারে।’

তবে বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হচ্ছেন কি না এবং হলে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তাঁর উত্তরসূরি কে হচ্ছেন—দুই প্রশ্নের উত্তরই এখন নির্ভর করছে দলটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর।