বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন তারা কোনোভাবে বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ না পায়। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের মতো চলে যাবে, কিন্তু দিনশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ।’
জাতীয় সংসদে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করবে। বিরোধী দল বা অন্য কারও কোনো পরিকল্পনা থাকলে সেটিও জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
তবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও জনগণের শান্তি নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছরের বেশি সময় আগে। এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। এখন কাজ করার ও দেশ গড়ার সময়।’
জনগণের কল্যাণকে সরকারের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জনগণ সরকারকে নির্বাচিত করেছে। তাই সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকা, নারী ও শিশুদের কল্যাণ নিশ্চিত করা, সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের দায়িত্ব।
৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে এর মূল কার্যক্রম শুরু হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বাঁশখালী উপজেলার প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে।
ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি লবণ চাষীরাও এ কার্ডের সুবিধা পাবেন। লবণ চাষীদের আর্থিক দুরবস্থা কাটাতে শিগগিরই লবণের নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক করিডোর করার পরিকল্পনা
চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সমুদ্র দেশের বড় জাতীয় সম্পদ। চট্টগ্রামের মহেশখালী, মীরসরাই ও মাতারবাড়ী অঞ্চলে বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে বহু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
পাঁচ বছরে উপজেলা হাসপাতাল ১০১ শয্যার
স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এর ফলে দেশের তৃণমূলের মানুষ আরও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পাবেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এ খাতটি অল্প কিছু মানুষের হাতে চলে গিয়েছিল। জনগণের স্বার্থে অপরিকল্পিত ব্যবস্থাগুলো পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার।
আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেমন হবে, সেই পরিকল্পনার প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্প-কারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি যানবাহনসহ বিভিন্ন খাতে সহজে গ্যাস পাওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না’
চট্টগ্রামের দুই নেতাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন চট্টগ্রামের দুই ব্যক্তি। তাই এই অঞ্চলের উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আর পিছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য—জনগণের জীবনমান উন্নত করা এবং দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।’
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন চেয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে জনগণের স্বার্থে নেওয়া কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
দেশের শ্রমশক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। প্রত্যেক মানুষ যেন দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
জনসভায় উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা সেই শপথ গ্রহণ করি যে বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে, বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।’
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেন। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের জন্য নির্মিত নতুন বাড়ির চাবি পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন। পরে নতুন বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
এ সময় পরিবারটিকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং হাঁস-মুরগিও দেওয়া হয়।




















