ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল কলম্বিয়া, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু মানুষ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৬:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। শক্তিশালী কম্পনে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের দিকে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কলম্বিয়া। এর উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারের প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে।
শক্তিশালী এই কম্পন কলম্বিয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে পেরেইরা ও কালি। পেরেইরা শহরে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শহরটির মেয়র মাউরিসিও সালাজার পরিস্থিতিকে ‘সংকটজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়ার মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এসব কম্পনের কয়েকটির মাত্রা ৬-এর কাছাকাছি ছিল বলে জানা গেছে।
কালি শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সেখানে প্রায় ২০টি বাড়ি ধসে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে। ধ্বংসস্তূপে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা জানতে এবং আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যাচ্ছে। কিছু ভিডিওতে ভবন ও বাড়িঘর দুলতে এবং কয়েকটি স্থাপনা ধসে পড়তে দেখা গেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওর সবগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি সংস্থাগুলো কাজ করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার, চিকিৎসা ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজ যত এগোবে, হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা থাকায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ার শঙ্কাও রয়েছে।





















