‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর ঘিরে কৌতূহল, হাসিনা-জট কি কাটবে?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ সফরে এসেছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং—‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের মধ্যে তাঁর ঢাকা সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক অঙ্গনের অনেকে।
পরাগ জৈনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছায় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের আমন্ত্রণে তাঁদের এই সফর।
ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন পরাগ জৈন। তাঁর সঙ্গে প্রতিনিধি দলে ছিলেন অশ্বিন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেড়ি ও শৈবাল রায়চৌধুরী।
তবে বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
একই দিনে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
পরাগ জৈনের ঢাকা সফরের মধ্যেই সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একই সময়ে ভারতের গোয়েন্দা প্রধানের ঢাকা সফর এবং ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ—দুটি ঘটনাই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।
হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে টানাপোড়েন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়। ভারত সরকার শুরু থেকেই বলে আসছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যকে তারা সমর্থন করে না।
অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা বা নীরব সমর্থন থাকলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে বলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর দুই দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকায় এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ
এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এই আমন্ত্রণ এসেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে আশা করা হচ্ছে।
পরাগ জৈনের ঢাকা সফর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ—দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথে কোনো নতুন বার্তা বহন করে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।




















